একজোড়া

Posted: মার্চ 2, 2017 in ছন্দের কারিকুরি
ট্যাগসমূহ:, ,

হৃদয়ের ওমে বোনা
পশমী মাফলার
উশ্‌কে তোলে উষ্ণতা,
রঙিন সুতোয় যত্নে তোলা
আবছা হওয়া নাম…

বারাণসীর ঘাটে
সে যে ভাসিয়ে দিল শব
স্মৃতির স্রোতে যতেক ডালা
তোমার-ই সে সব…

হোয়াট্‌স অ্যাপ যে ভাল জিনিস, সে বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ ছিলনা প্রথম থেকেই। বেশি ভাল আমার সয়না, তাই নিজের ফোনে ব্যাপারটা রাখিনি অনেকদিন। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের অবহেলা, অনাদর উপেক্ষা করেও একা কুম্ভ’র মতন লড়ে যাচ্ছিলাম। পয়সা খরচা করে ফোন করতাম বা এস এম এস তবুও মাথা নোয়াইনি।

তা কয়েকমাস আগে একটি ঘটনা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল।

এবছর পয়লা বৈশাখের পরদিন জনৈক বয়স্কা প্রতিবেশীর সঙ্গে মুখোমুখি হওয়াতে বলেই ফেললাম, “শুভ নববর্ষ”।  এমনিতে ওনার সঙ্গে মাঝে মাঝে বাক্যালাপ হয় বটে তবে তেমন কিছুনা। ভদ্রমহিলা কেমন ভূত দ্যখার মতন কয়েক সেকেন্ড চেয়ে রইলে্ন, তারপর আমতা আমতা করে “নববর্ষ” বা ওরকম কিছু একটা বলে ঘরের ভেতর সেঁধিয়ে গেলেন। রকমসকম দেখে সুবিধের লাগলোনা। হঠাৎ দেখি উনি হাতে একটা কী নিয়ে আবার আসছেন। নিশ্চয়ই মিষ্টি-ফিষ্টি দেবে ভেবে খুশি হয়ে গেলাম O:) নাঃ, লোককে এত অল্পে ভুল বোঝা ঠিক না, ভাবতে ভাবতেই দেখি এগিয়ে এসে ভয়ানক রহস্যময়ভাবে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “এই, তুমি আমাদের “কোন এক পাড়ার বধূ” গ্রুপে নেই? কাল যে অতগুলো  নববর্ষ ফরওয়ার্ড করলাম, উইশ করলাম, পাওনি?”
আমি, সত্যি বলতে কী, এক অজানা জগতের অপার সম্ভাবনাসমৃদ্ধ এই সাংকেতিক প্রশ্নের সামনে যাকে বলে হুব্বা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আরো কিছু তীব্র, তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণের পর আমি বাড়ি এসে, অতঃপর, নিজের উপর লজ্জায়, ঘেন্নায়, ফোনে  হোয়াট্‌স অ্যাপ ইন্সটল করলাম।

এর পরদিন থেকে সকালগুলি যারপনাই অজস্র বন্ধুদের ফরওয়ার্ড স্বরূপ আশীর্বাদে সততই গুডমর্ণিং হয়ে উঠতে শুরু করল। দুপুর, বিকেল এবং রাতেও ভাব-ভালবাসার অন্ত নেই। কিছু কিছু মানুষ আবার কমপক্ষে চার-পাঁচটা “গুড-নাইট” লেখা ছবি পোস্ট না করে ঘুমোতে পারেননা। কারো কারো দৃঢ় বিশ্বাস, ২০ জনকে “ভগবান তোমার ভাল করুন” মেসেজ ফরওয়ার্ড করলে ভগবান অবশ্যই যাবতীয় কাজ ফেলে ছুটে এসে তাদের মঙ্গল, বুধ বা বেস্পতি কিছু একটা করবেন। কারো আবার বদ্ধমূল ধারণা, ৫০ জনকে কোন বিশেষ লিঙ্ক পাঠালে সে ৫০০ টাকার টকটাইম ফ্রী পাবে! এছাড়া, গেঞ্জি-জামা-ব্রা-প্যান্টি এসব ফ্রী-তে পাওয়া যাবে
সুধ্‌ধু ফরওয়ার্ড করলেই, এরকম লোভনীয় হাতছানিও পাওয়া যায়।

ফরওয়ার্ড- এর উপরেই দুনিয়া কায়েম হ্যায়। ঘাসের ওপর প্রথম পড়া শিশির সামান্য নুন দিয়ে খেলে কোষ্ঠ সাফ হবে, টোম্যাটো বেশি খেলে মানুষ পাগল হয়ে যায়, ইউনেস্কো আমাদের জাতীয় সঙ্গীতকে বাকী সব দেশেরও জাতীয় সঙ্গীত করার পরামর্শ দিয়েছে, কীভাবে বসলে মাথায় কোনদিন টাক পড়বেনা, কার কার ব্যাঙ্কে ঠিক কত পরিমাণ কালো টাকা আছে, কালো টাকা গোলাপী করার ১০ টি সহজ পদ্ধতি, কীভাবে দু-কিলোমিটার দূর থেকে গন্ধ শুঁকে বুঝতে পারবেন সবচেয়ে নিকটবর্তী এটিএম-এ টাকা আছে না নেই, বা, নিমপাতার টক-মিষ্টি ফিরনি- এ সবই আমি হোয়াট্‌স অ্যাপ ফরওয়ার্ড থেকেই জেনেছি। যে বই আমি কখনো পড়িনি, যে সিনেমা আমার কখনো দেখতে ইচ্ছে হয়নি, ফরওয়ার্ড আমাকে সেইসব বই/সিনেমা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করেছে, সমাজে আমি মাথা উঁচু করে চলতে শিখেছি।

আজ তাই নতমস্তকে, ছলোছলো চোখে বলতে বাধ্য হচ্ছি… হে হোঅ্যা, আমারে তুমি অশেষ করেছ, এমনি লীলা তব ,ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব……

 

#পুঁচু ১১

Posted: অক্টোবর 12, 2016 in ছন্দের কারিকুরি

#পুঁচুর পোস্ট-পুজো প্রশ্ন 

পুঁচুরা এবার ছিলনা পুজোয়। বেড়াতে গেছিল, দশমীর দিন ফিরেছে। দারুণ সিমলা-কুলু-মানালি ঘুরেও পুঁচুর মনে হল একটু একটু মন খারাপ। ঠাকুর দেখতে পারলোনা বেচারি ঠিকমতন। তাছাড়া, ওদের ফ্ল্যাটের ঠিক নীচেই পুজো হয়, তার একটা আলাদা আনন্দ তো আছেই। দশমীতে সেই আনন্দটুকু এক্কেবারে উশুল করবার চেষ্টা করছিল পুঁচকেটা।

এবার আর কারো কাছ থেকে বরণের আগেই মিষ্টি-টিষ্টি চায়নি বা খেয়ে রসে-মাখা হাত কারো আঁচলে মোছেনি।বেশ গম্ভীর হাবভাব। হঠাৎ গণেশের পাশে নবপত্রিকাকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, “ওটা গণেশের বৌ?” বিশদ ব্যাখ্যায় তখন গিয়ে কাজ নেই ভেবে আমি বললাম, “ঠিক তা না, পরে বলব”।
– এখনই বল…
– পরে বলব, বাবু, সময় লাগবে, এখন দ্যাখ্‌ সবাই কত নাচছে…ঢাক বাজছে। যা তুই-ও নাচ…
– আচ্ছা, তাহলে বল, কলা-বৌ সবসময় মুখ নীচু করে থাকে ক্যানো?
– (নিরুপায় হয়ে) আমি জানিনা… 😦
– আমি জানি…
– (ভয়ানক বিস্মিত) কেন?
– ওরা তো পুজোর সময় এখানে বেড়াতে আসে সবাই মিলে। সবাই কত ছবি তোলে। আমরাও যখন বেড়াতে গেলাম, মা, বাবাকে বলছিল, “তোমার এমন ভুঁড়ি হয়েছে যে একসাথে ছবি তুলতে গেলে লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে যায় আমার।” গণেশদাদার তো বাবার থেকেও বেশি ভুঁড়ি… তাই ওর বৌ সবসময় মাথা নীচু করে থাকে!!!!

zulfiqar-trailer-review-3_147211421562

#Zulfiqar

প্রথমেই বলা দরকার, যে বাংলা সিনেমা আমি দস্তুরমতন গ্যাঁটের কড়ি খচ্চা করে দেখে থাকি। কারণ, সেই যে আপ্তবাক্য; বাঙালি কে বাঙালি না দেখিলে আর কে দেখিবে! সুতরাং “জুলফিকর” যে দেখবো সেটা ঠিক করাই ছিল।

দেখে-টেখে ফিরে এসেছি। মন-মেজাজ অতীব প্রফুল্ল এমনটা বলা যায়না। তার কারণ এটাও হতে পারে, পেপ্‌সিটা তেমন ঠান্ডা ছিলনা, ইদিকে এসির ঠান্ডায় প্রায় জমে যাওয়ার দশা। যাইহোক, ভ্যানতাড়া ছেড়ে কাজের কথায় আসা যাক। “জুলফিকর” সম্বন্ধে আমার সামান্য দু-পয়সা…

#১ সিনেমা শুরু হয় টোনি অর্থাৎ পরমব্রতর (অ্যাজ অ্যান্টনি) হসপিটালে শুয়ে থাকার দৃশ্য দিয়ে। সেখানে অঙ্কুশ (অ্যাজ অক্টাভিয়াস সিজার) এবং রাহুল ( অ্যাজ লেপিডাস) উপস্থিত। সিনেমাতে প্রথমজন ব্যান্ডের গান গাওয়া ভাইপো থেকে ডনে পরিণত হয়েছে এবং দ্বিতীয়জন পুলিশ। ফুড-চেইন বিষয়ক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা চলে। হঠাৎ করে মনে হতে পারে পোর্ট এরিয়ার ডন বা পুলিশ নয়, বেশ আঁতেল বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এসে পড়েছি। -_-

#২ টোনি ইংরেজি ছাড়া কথা কয় না বললেই হয়। সেটা আশ্চর্য ব্যাপার নয় তেমন, কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল যে সীজারের খুনের পর অ্যান্টনি’র সেই বিখ্যাত sarcastic speech এখানে প্রায় circustic মনে হয় যখন আমজনতার সামনেও টোনি ইঞ্জিরি তেই বকে যায় এবং,  অহো শিক্ষাব্যবস্থা (!) তারা দিব্য সব বুঝতে পারে :/

#৩ নুসরত জাহানের কিছু করার ছিলনা। শুধু সারাক্ষণ ম্যাচিং স্লিভ্লেস ব্লাউজের সঙ্গে শিফন শাড়ি পরে এদিক-ওদিক তাকানো বা এর-তার সঙ্গে শুয়ে পড়া ছাড়া। শোয়া মানে জাস্ট শোয়াই, অন্য কিছু না।
পাওলি’র কেস টা ঠিক বোধগম্য হয়নি প্রথম থেকে শেষ অবধি। কিছু একটা মানসিক রোগ আছে এটা বোঝা যাচ্ছিল কিন্তু কেন যে তার অ্যাটাক শুধু পোসেঞ্জিত মানে জুল্‌ফিদা থাকাকালীন-ই হয়, সেটা বোঝা গেলনা। আর অত্ত বড় ডনের বাড়িতে আর কেউ নেই গো যে অভাগী বউ টাকে একটু দেখাশোনা করে… 😥
জুন মাল্য’র আরোই কিছু করার ছিলনা, বেশ কষ্টই হল ওনার জন্য। 😦

#৪ কৌশিক সেন বশির বা ব্রুটাস হিসেবে দিব্যি; শুধু যদি গলার স্বর টা অ্যাস্থমা রোগীর মতন না করার চেষ্টা করতেন, ভাল লাগত। “রাজকাহিনী”র ঋতুপর্ণা’র মেল ভার্সন আর কি।

#৫ ক্যাসিয়াস বা কাশীনাথ হিসেবে যীশুকে বেশ ভাল লেগেছে। সত্যি কথা বলতে কি, হল-এ তিনবার হাততালি পড়েছে, প্রথমবার, যখন দেবরূপী মার্কাসের এন্ট্রি হয়, দ্বিতীয়বার, যখন কাশীনাথ বলে, “আমার কপালে কী লেখা আছে বলে মনে হয়? বোকাচোদা?” (I’m really disappointed, একটা বিসি শুনে হাত্তালি :/ ) এবং শেষবার, যখন ভূতরূপী জুলফিকর যুদ্ধশেষে দ্যাখা দ্যান। এখানে কেন জনতা হাত্তালি দিল, মাইরি বুঝিনি… :/

#৬ একটা জিনিস বোঝা গেল, দেব ইজ দেব, দ্য বস্‌! মাক্কালীর দিব্যি, এতটুকু বাড়িয়ে বলছিনা, আমারও দারুণ লেগেছে ❤ :* ও হ্যাঁ, বলেছি কী, যে, এখানে দেবের কোন ডায়ালগ নেই, চরিত্রটি কথা বলতে পারেনা। তবে এর সঙ্গে আমার ভাললাগার যোগসূত্র খুঁজবেন না প্লীজ। শুধু লুক্‌স বিচার করলে, দেব-ই বেস্ট। সে বাকি পথ, রথ, মূর্তি, যতই ভাবুক “আমি দেব”… অন্তর্যামী মুচকি হাসবেন।

#৭ কয়েকটা দৃশ্যায়ণ বেশ লেগেছে। খিদিরপুরের ক্যান্টিলিভার ব্রিজের ঠিক জোড়টায় দেব এবং নুসরতের দাঁড়িয়ে থাকা তাদের সম্পর্কের ভঙ্গুরতা কে খুব subtle ভাবে বোঝায়। বা বশিরের গলার ইন-ইয়াং লকেট বা মাইকের গায়ে “বাঁশ” লেখা- এগুলি বেশ ইঙ্গিতবাহী।

আরো দু-একটা জিনিস না বললেই নয়, সেটা হল, কিছু ঐতিহাসিকের মতে, অ্যান্টনি আর ক্লিওপ্যাট্রা ঈজিপ্টে অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করাকালীন একটি সোসাইটি গঠন করেছিলেন, Inimitable Livers নামে, হয়ত সেটা মনে রেখেই এখানে রানী তলাপাত্ররূপী নুসরতের (হ্যাঁ, উনিই ক্লিওপ্যাট্রা  😥 ) বার-এর উপস্থাপনা।

শেষটা অসম্ভব প্রেডিক্টেবল…যা যা হবে বলে ভাবছিলাম, তাই তাই হয়েছে। এখন আপনার ভাবনার সঙ্গে সেই সেই ভাবনা মেলে কি-না সেটা জানার জন্যেও একবার অন্ততঃ দেখতেই পারেন সিনেমাটা :3

পুঃ- সেন্সর এটাকে এ-মার্কা বলে সার্টিফাই করেছে, ইন্টারনেটে টিকিট কাটতে গেলেও ডিক্লারেশন দিতে হচ্ছে বয়সের, সুতরাং অবধারিত ভাবেই হলে প্রায় 40% ছেলেমেয়েকে দেখে গাল টিপলে দুধ বেরোবে মনে হল ঢোকার সময়। বেরোনোর সময় সেই মুখগুলোয় যে হতাশা, ক্রোধ এবং প্রতিশোধমূলক ভাব দেখলাম… সত্যি বলছি, চোখে জল এসে যাচ্ছিল… 😥 বেচারারা… পুজোর পকেট্মানি থেকে টাকা দিয়ে টিকিট কেটে…  বাচ্চা বলে কি মানুষ না… সাধ-আহ্লাদ থাকতে নেই গো…

ফেসবুকের “আদার” ইনবক্স একটি স্বর্ণ খনি বিশেষ। নারী মাত্রেই জানেন এর তাৎপর্য‍্য। কত কিসিমের যে লোক হয় এই নেট দুনিয়ায়, তা বোঝার এবং জানার সহজতম উপায় এই “আদার”। আপনি আদার ব্যাপারি হন বা জাহাজের কারবারী, আউট অভ দ্য বক্স ভাবনাচিন্তা কাকে বলে এই ইনবক্স তার জলজ্যান্ত উদাহরণ।

এমনিতে সবাই জানে যে মেয়ে হওয়া এদেশে মোটামুটি একটা অপরাধের সামিল; এই মেয়েদের জন্যেই ধর্ষণের মতন একটা জঘন্য অপরাধ ঘটছে প্রতিনিয়ত; এই অসভ্য, হায়াহীন প্রজাতি কম কম জামাকাপড় পরে, সেজেগুজে দিনের বেলা তো বটেই এমনকি রাত্তিরবেলাতেও রাস্তায় ঘোরাফেরা করে পুরুষ কে প্রলুব্ধ করতে! কী সাংঘাতিক! শাড়ি-সালোয়ার প্রভৃতি সো-কল্ড ভদ্র পোষাকের বাবা-মেসো করে এরা জিন্‌স, হাপু, এমনকি গরম প্যান্ট পর্যন্ত অনায়াসে পরে ঘুরে বেড়ায়। এসব দেখে যদি পাঁচটা ছেলে একটু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তাহলে তাদের দোষ কোথায়?  আর একথা ব্যাদে আছে যে ছেলেদের মন মেয়েদের মতন প্যাঁচালো নয়, হুঁ হুঁ বাওয়া, ওদের মনে যা, মুখেও তাই।  তাই রাস্তায় এর’ম মেয়ে দেখে যদি মধ্যমা অটোমেটিক্যালি উঠে যায় বা চাট্টি রসের কথা মুখ থেকে বেরোয়- তাহলে কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়, বুঝিনা।

এত্তসব ট্র্যাফিক আইন হয়েছে, লাইট রে, পুলিশের প্যাট্রোল ভ্যান রে, ক্যমেরা রে, দাদুগীতি রে- আরে বস্‌, কয়েকটা ঝক্কাস দেখতে মেয়ে-পুলিশকে (ইয়েস, আগে মেয়ে, পরে পুলিশ, স্বাভাবিক নিয়মেই) ঝিঙ্কু ড্রেস পরিয়ে মোড়ে মোড়ে দাঁড় করিয়ে দাও, মার্সিডিজ টু রিক্সা , স-ও-ব দেখবে ঠিক জায়গামতন থামছে, চাখছে, যাচ্ছে। Total egalitarian concept- সব্বাই এক, আমরা সবাই রাজা… ইত্যাদি প্রভৃতি।

আচ্ছা, আচ্ছা, যা বলছিলাম… আসলে এই টপিক নিয়ে লিখতে বসলেই আমি একটু, ইয়ে মানে, আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি আর কী। ক্ষমাঘেন্না করে দেবেন নিজগুণে…
যাইহোক, হচ্ছিল “আদার” ইনবক্স এর কথা। আমি একদিন এক সুন্দর, সুবাসিত সকালে একটি মেসেজ পেলাম, একজন ভীষণ উদ্গ্রীব হয়ে জানতে চেয়েছেন, আমি শুতে কত নিয়ে থাকি। এতে আমি যারপরনাই অবাক হয়ে রিপ্লাই দিয়েছিলাম যে আমি এমনিতেই ঘুমাতে ভালবাসি, তার জন্য কেউ কখনও টাকাপয়সা দেয়নি আমাকে। ওনার বাড়ির মহিলারা শোয়া বা ঘুমানোর জন্য চার্জ করেন বলে সবাইকে অমন ভাবা ঠিক না। এতে করে কেন জানিনা উনি ভয়ানক ক্ষিপ্ত হয়ে গেছিলেন। আরো দু-চারটে কথার পর আমাকে ব্লক করে দিলেন অথচ আমি বুঝতেই পারলাম না যে আমার দোষটা কোথায়!

তাছাড়া, প্রত্যেক মেয়েই কোন না কোন সময় মেসেজ পেয়ে থাকে যে তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কেউ তাকে মডেল বানাতে চায় বা ফোটোশুট, বা  নিদেনপক্ষে, কোন বিশেষ পোজে তার ছবি দেখতে চায়। সুদূর মরক্কো থেকে শুরু করে নিকারাগুয়া, পারস্য এমনকি মঙ্গল্গ্রহ থেকেও এমত অনুরোধ এলে কোন মেয়েই অবাক হয়না। হওয়ার কথাও নয়, আমরা তো জানি, “আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী” … কিন্তু ভুসুকু এও বলেছেন যে, “মূঢ়া হিঅহি ণ পইসঈ” অর্থাৎ গাড়লের মগজে এতসব ঢোকেনা, তাই অবাক হওয়া বাদ দিলেও মাঝে মাঝেই মেয়েরা এইসব নিয়ে চিল্লামিল্লি করে, মানে মেয়েদের তো বুদ্ধিশুদ্ধি টেন্ডস টু জিরো …তাই আর কী…। এসব ছাড়াও, আমি_শুধু_চেয়েছি_তোমায়, বল্গাহীন_ভালবাসা, বিছানায়_বক, Sexy_Stud, Eternal_erection, DiscoDick- এরা সকাল-সন্ধ্যায় নিয়ম করে খোঁজখবর নিয়ে থাকে, বিচিত্র বানানে “ভালবাষা” জানায়।  Lyf roxxx!

তবু, এতকিছুর মধ্যেও ভরসার কথা এই যে, ইহজীবনে যত এরকম “হাম তো (মহা) পুরুষ হ্যায়, হাম ক্যা নেহি কর স্যকতা, সবকুছ জায়েজ হ্যায়” টাইপ ছেলে দেখেছি, তার দ্বিগুণ দেখেছি ঠিক মানুষের মতন পুরুষ। নিজের বাবা, দাদা,কাকা, স্বামী বা ছেলের কথা বাদ দিলেও বন্ধুস্থানীয় তাদের সংখ্যাটাও বড় কম নয়। এইসব নিয়েই তো জীবন, আমাদের জীবন; সবাই “ওম্মা, দ্যাখ কী ভাল, তকাই আমার” হবে, আয় তবে সহচরী গাইবে নেচে নেচে, তাই হয় নাকি? না হওয়া উচিৎ ।

বেঁচে থাক আমার নারীত্ব, আমার মেয়েলী সারল্য, আমার অকারণ হাসি, (পড়ুন ন্যাকামো) আমার চকিত সতর্কতা, আমার সঙ্গীর পায়ে-পা মিলিয়ে এগিয়ে চলার আনন্দ। সে পিছিয়ে পড়লে দাঁড়াব তার জন্য, কারণ আমি জানি সেও ঠিক তাই-ই করবে। পুনর্জন্ম আছে নাকি? কেউ জানেন? থাকলে, অগলে জনম মে মোহে বিটিয়া হি কিজো।