Posts Tagged ‘#আমার_ফেলাছড়ার_কথকতা’



তিনটে বিশালদেহী নারকেলগাছ আকাশের অনেকটা কিনে নিয়েছে। সূর্যটা প্রতিদিন ওদের পাতার আড়ালেই রাতের আশ্রয় নেয়। টুপচুপ অন্ধকার অজস্র পালকের মত ধীরে ধীরে নেমে আসে। ভারহীন, শব্দহীন, তবুও ভীষণরকম বাঙ্ময়। অন্ধকারের একটা মাধুর্য আছে; আলোর নির্লজ্জ রঙমাখা শহুরে অন্ধকার নয়, ফণীমনসার কাঁটায়, বটের ঝুরিতে, বুনো কচুর পাতা-ভরা যে অন্ধকার, সে শিরশিরানি জাগিয়ে তোলা সুন্দর। উপরে মেঘের ছাউনি, ইতিউতি উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করা দু’একটা অবাধ্য তারা– সেই সৌন্দর্যে আটকা পড়ে যায়।

মেয়েটা রাত্তির ভালবাসে। অন্ধকার ভালবাসে। অন্ধকারের নিজস্ব অস্তিত্ব তার চেনা। হালকাপলকা পশমিনা শালের মত সেই অস্তিত্ব, সব কষ্ট, সব ক্ষত আলতো করে ঢেকে দেয়। ভারি নিশ্চিন্ত লাগে। একজোড়া কালো ডানা গজায়…. হুউউশ করে সময় পেরিয়ে যায়।
গাঢ়তর হয় রাত, জোনাকি জ্বলে আজকাল মাঝে মাঝে। উড়ন্ত সবুজ পান্নার মত মনে হয় লুসিফেরন আর লুসিফেরজের এই কাণ্ডকারখানা। ওরা নাকি সঙ্গী খোঁজে আলো জ্বালিয়ে। হবেও বা। মেয়েটার মনে হয়, এই রাতটা-ই জীবন্ত। বিশ্বচরাচরে কাউকে প্রয়োজন, মনেই হয় না। বেলফুলের গন্ধের সঙ্গে মিশে যেতে ইচ্ছে করে হাওয়ায় ভর করে।
রাত হতে ইচ্ছে করে।
গাছ হতে ইচ্ছে করে।
কিছু হয় না।

অনেকক্ষণ পর, নারকেলগাছগুলো আর কালো থাকে না। সবুজ হয়ে ওঠে আবার।আরেকটা দিন,মানুষ সেজে ঘোরার যন্ত্রণাময় আরেকটা দিন শুরু হয়।