Posts Tagged ‘বাংলা’

অপেক্ষা করতে বিরক্ত লাগলেও উপায় নেই। বসে তাকে থাকতেই হবে। হিসেবমতো, ফোনটা আসার আগে এই ঘর ছেড়ে তার বেরনোর কথা নয়। তাই, চুপচাপ বসে আকাশপাতাল ভাবা ছাড়া আর কী করা যায়, সেটা চিন্তা করতে করতেই মুঠোফোন মৃদু নড়েচড়ে উঠল। ভাইব্রেশনে রাখা। দ্বিতীয়বার নড়ার সঙ্গে সঙ্গেই “অ্যাক্সেপ্ট” বোতাম টিপলো সে এবং ওপার থেকে ভেসে এল কন্ঠস্বর,

— ঘুমিয়ে পড়েছে?
— হ্যাঁ, বেশ কিছুক্ষণ আগে…
— আপনি এবার বেরিয়ে যেতে পারেন। অনেক ধন্যবাদ।

কট্‌ করে কেটে গেল লাইন। তারপরেও একটুক্ষণ থম্‌ মেরে বসে রইল সে। “ধন্যবাদ” শব্দটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। কেউ কখনো আগে তাকে ধন্যবাদ দেয়নি এই কাজের জন্য।

অবশেষে, নিজের মনেই একটু হেসে, ব্যাগটা তুলে দরজা দিয়ে উঁকি মেরে ফাঁকা করিডরে বেরিয়ে এল সে। কেউ নেই কোত্থাও। থাকার কথাও নয় এই রাত একটার সময়। যেমন বলা হয়েছে, তেমনি, ঘরের দরজাটা আলতো করে ভেজিয়ে, লিফ্‌ট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে  নেমে পেছনের রাস্তায় বেরোতে আরো খানিকক্ষণ।
রাস্তা জুড়ে মসৃণ, পাতলা কুয়াশার পর্দার মধ্যেও একটু দূরে দাঁড়ানো গাড়িটা চিনতে কষ্ট হলনা। ড্রাইভার বোধহয় ঘুমিয়েই পড়েছিল কারণ বেশ কয়েকবার জানালার কাঁচে টোকা মারার পর দরজা খুলল। ভেতরে বসে ব্যাগের মধ্যে হাত দিয়ে নোটের মোটা বাণ্ডিলটা একবার স্পর্শ করল সে। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস বেরনোর সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ীটা কুয়াশা ভেদ করে এগিয়ে চলল।
—————————————————————————————————————————————–

প্রায় দশবার নক্‌ করার পরেও স্যুট নম্বর ৭০৮ থেকে  কোন সাড়া না পেয়ে, হাউসকিপিং-এর নতুন রিক্রুট অনিল রাস্তোগীর কপালে এই শীতেও বিন্‌বিন্‌ করে পুঁতির মত ঘাম ফুটে উঠল। ভেতরে যাঁর থাকার কথা, তিনি হেঁজিপেঁজি লোক নন, এ দেশের বিখ্যাত বিজনেস টাইকুনদের মধ্যে অন্যতম।  কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আরো দু-মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেই সে ম্যানেজারের ঘরের দিকে ছুটল।
—————————————————————————————————————————————–

কুণাল পার্কে অষ্টমবার পাক দেওয়া সবে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়েই ফোনটা বাজল। অভ্যেসমাফিক, ফোনটা তুলেই “ইন্সপেকটার রয় স্পিকিং” বলার সঙ্গে সঙ্গেই ওপার থেকে যা খবর পাওয়া গেল, তা পুরো দিনটা মাটি করার পক্ষে যথেষ্ট। কয়েক মিনিট পর, ফোনটা বন্ধ করে কুণাল ফের জগিং-এ মনোনিবেশ করল। যা হয় হোক, দশ পাক না মেরে কোথাও যাওয়ার প্রশ্ন নেই!

ঠিক আধঘন্টা বাদে, কুণাল যখন হোটেল “ভিউ পয়েন্ট”-এর রিসেপশনের ঢুকল, তখনও পরনে জগিং-এর পোষাক। সবে সকাল সাড়ে আটটা, লবিতে লোকজন বিশেষ নেই এবং বোঝাই যাচ্ছে যে হোটেল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যাপারটা মিডিয়ায় এখনো অবধি ফাঁস হতে দেয়নি। তবে শেষরক্ষা হবেনা, বলাই বাহুল্য, ভাবল কুণাল।

— ইয়েস স্যার, হাউ মে আই হেল্প ইউ? রিসেপশনের ছোকরা নির্লিপ্তভাবে তাকিয়ে মেশিনের মত আউড়ে গেল।
কুণাল বেশি কথার মানুষ না। বস্তুতঃ, ডিপার্ট্মেন্টের সকলেই জানে ওর মেজাজ আর গোঁয়ার্তুমির কথা। যা মনে করবে, সেটাই করবে। তিনকূলে কেউ নেই, ঘুষ খায়না, মেয়েছেলের দোষ নেই, সৎ, পরিশ্রমী এবং ঝক্‌ঝকে বুদ্ধির অধিকারী এই বাঙালী ছেলেটিকে তাই মেজাজ সত্ত্বেও ওপরওয়ালারা যথেষ্ট স্নেহ করেন এবং একটু সমঝেও চলেন।

এখনও কুণাল একটাও কথা খরচ না করে শুধু আই-কার্ডটা বের করার সঙ্গে সঙ্গেই ছোকরার নির্লিপ্তি, সম্ভ্রমে বদলে গেল। কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা একজন পোর্টারকে ডেকে ম্যানেজার মিঃ কাশ্যপের কেবিনে পৌঁছে দিত বলল ওকে।

মিঃ জয়রাম কাশ্যপ, দেরাদুনের অন্যতম বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল, “ভিউ পয়েন্টে” -এর ম্যানেজার, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন কুণালের জন্য। এই ছবির মত ছোট্ট, সুন্দর পাহাড়ী শহরে দু-বছর হতে চলল কুণালের। সকলেই প্রায় ওর খ্যাতি বা কুখ্যাতির কথা জানে। মিঃ কাশ্যপের মুখ দেখে যথেষ্টই টেন্সড মনে হল। ওনারা যা সন্দেহ করছেন, তাই ঘটে থাকলে পুলিশের কাছ থেকে ক্লিন-চিট পাওয়াটা হোটেলের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে জরুরী। মিঃ কাশ্যপের দুশ্চিন্তার কারণ আছে বৈকি।
____________________________________________________________________________________________

ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে স্যুট নম্বর ৭০৮-এ ঢুকে বিস্তৃত বসার ঘর পেরিয়ে, পাশে বেড্রুমে ঢুকতেই একঝলক কন্‌কনে ঠাণ্ডা হাওয়ায় কেঁপে উঠল কুণাল। বিছানায় যিনি শুয়ে আছেন, তাঁকে সারা ভারতবর্ষে অনেকেই চেনে। বিখ্যাত ব্যবসায়ী মিঃ অশোক সিংঘানিয়া। ঠিক মাথার পাশের জানালাটা হাট করে খোলা। শোয়ার ভঙ্গী দেখে এক ঝলকে কিছু বোঝা না গেলেও পুলিশের বুঝতে অসুবিধে হয়না, যে, দেহে আর প্রাণ নেই। নীচু হয়ে ঝুঁকে একটা আঙ্গুল স্পর্শ করল কুণাল— বরফ! জানালার হাওয়া তার কাজ করেছে।

— আপনারা কেউ এর আগে এই ঘরে ঢুকেছেন? কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাশ্যপকে জিজ্ঞেস করে কুণাল।

— না…ন্‌না…কেউ না।

— হুঁ, জানালাটা তাহলে খোলাই ছিল, তাই তো?

— তাই হবে, স্যর। হয়তো প্রচণ্ড হাওয়ায় কোনভাবে খুলে গিয়ে থাকবে। কাল তো ভয়ানক কুয়াশা ছিল, হাওয়ার দাপট বেড়েছিল রাত্রের দিকে। পাগলেও এই ডিসেম্বরের রাতে দেরাদুনে জানালা খুলে শোবেনা!

— হুঁ; আর কথা বাড়ায়না কুণাল।

ফরেন্সিক টিম এবং ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করতে করতেই ওর অ্যাসিস্ট্যান্ট আনন্দ রাঠৌর এসে পৌঁছায়। একবার  ঘরে ঢুকে দেখেই মাথা নেড়ে বেরিয়ে আসে।

— সিম্‌স টু বি অ্যান ওপেন অ্যান্ড শাট্‌ কেস, স্যর। এভরিথিং লুক্‌স পার্ফেক্ট। নো ফোর্সড এন্ট্রি অর এনিথিং…   হি মাইট হ্যাভ গট্ন আ হার্ট অ্যাটাক…….

–ইয়েস, ইয়েস। সোৎসাহে আলোচনায় যোগ দেয় কাশ্যপ, বলতে থাকে,

–আপনারা আমাদের সিসিটিভি ফুটেজ-ও দেখুন। কাল রাত ১১.৪৫-এর পর এই  সেভেন্‌থ ফ্লোর থেকে আর লিফ্‌ট ওঠেনি বা নামেনি। নতুন কোন ভিজিটর বা গেস্টও আসেনি সাড়ে দশটার পর…  উই আর ক্লিন…

বোঝাই যাচ্ছে, ভাবল কুণাল, কাশ্যপ মনেপ্রাণে চাইছে যেন কোনভাবেই হোটেলের কোন বদনাম না হয়। সেক্ষেত্রে, বেচারার চাকরি-ও চলে যেতে পারে।

কুণাল তাও চিন্তা করছিল। ওর মন সবসময়েই অন্ধকারে আলো খুঁজে বেড়ায়। আর একটা কথা ও বিশ্বাস করে, টু মাচ নর্ম্যালসি মিন্‌স সাম্থিং ইজ অ্যাবনর্ম্যাল।

কিছুক্ষণ পর ডক্টর লোহিয়া বেরিয়ে এসেও প্রায় একই কথা শোনালেন।

— মৃত্যু ঘটেছে ভোর পাঁচটা থেকে সাড়ে ছ-টার মধ্যে কোন এক সময়ে। রিজ্‌ন; ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক। Primary flaccidity-র স্টেজেই আছে এখনো বডি। Rigor mortis সেট-ইন করেনি। তবে তোমাকে আরো সঠিকভাবে সময়টা বলতে পারবো এবং অন্যান্য ডিটেইলস, ইন কেস যদি পোস্টমর্টেম হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টস্‌ অনেক আছে, নেওয়া হয়েছে কিছু, যদি কাজে লাগে।

মাথা নেড়ে আর তেমন কিছুই করার নেই ভেবে শেষবারের মতন একবার ৭০৮-এ ঢুকেই থমকে যায় কুণাল। টেবিলের একেবারে তলায় ওটা কী? নীচু হয়ে টেনে বের করতেই দেখে একটা বুকমার্ক। সাধারণ বাজারী বুকমার্ক নয়, বাহারী, পাতলা কাঠের তৈরি… বেশ অন্যরকম, সুন্দর দেখতে।

ঘরে বই কোথায়? এদিক ওদিক খুঁজেও বই চোখে পড়লোনা তো। নিউজপেপার আছে,  কয়েকটা বিজনেস ম্যাগাজিন…কিন্তু বই নেই!

আপনা থেকেই ভুরু কুঁচকে যায় কুণালের।
____________________________________________________________________________________________

— পাগল হলে নাকি, রয়? এসিপি গুপ্তা মেজাজ হারিয়ে খেঁকিয়ে ওঠেন। কীসের জন্য পোস্টমর্টেম? একটা জানালা হাওয়ায় খুলে গেছিল আর তুমি কী একটা বুকমার্ক কুড়িয়ে পেয়েছো বলে? মিসেস সিংঘানিয়া কোনরকম সন্দেহ প্রকাশ করেননি। নো ফাউল প্লে। উনি বরং আমাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন। আর, এসব হাই প্রোফাইল কেস-এ ওপরমহলের চাপ কীরকম তা তোমার অজানা না। ভালয় ভালয় মিটে যাচ্ছে, কোথায় শান্তি পাবে তা না… সবেতেই তোমার এই ইন্‌ট্যুশন আর সন্দেহবাতিক। দু-দিন ছুটি নাও। দিস ইজ অ্যান অর্ডার…

— কিন্তু, স্যর, একবার শেষ চেষ্টা করে কুণাল। উনি আগের রাত্রেও একেবারে নর্ম্যাল ছিলেন। ডিনার  দিতে-যাওয়া স্টাফ কনফার্ম করেছে। হাইপারটেনশনের পেশেন্ট বলে নিয়মিত চেক আপ করাতেন… ওষুধের শিশিও পাওয়া গেছে বেডসাইড টেব্‌লে…

— তাতে কী? হাইপারটেনশন অনেক সময়েই সাইলেন্ট কিলার… আর কথা বাড়িওনা…প্লিজ!
____________________________________________________________________________________________

অসম্ভব মাথা গরম হয়ে রয়েছে কুণালের। মাঝে মাঝে ভাবে শালা চাকরিটাই ছেড়ে দেবে! বিগ পিপ্‌ল অ্যান্ড দেয়ার ইল্ক! মিসেস সিংঘানিয়ার সঙ্গে একবার কথা বলার ইচ্ছে ছিল, সেটাও সম্ভব হলনা। অবশ্য, এমনও হতে পারে ও নিজেই অকারণ সন্দেহ করছে এক্ষেত্রে। মেকিং মাউন্টেন আউট অভ মোল্‌হিল্‌স। যাক, কী আর করা, এই প্রথম ওর ইন্‌ট্যুশন ফেল করলো। কেস অফিশিয়ালি ক্লোজড।

এক কাপ কফি খাবে বলে সামনের কফিশপ্-এ ঢুকে বসতেই খিলখিল হাসির শব্দ ভেসে এল পেছন থেকে। দুটো অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে, মেয়েটা খুব হাসছে, ছেলেটা রেগে আছে, বোঝা যাচ্ছে।

— আমায় আধঘন্টা দাঁড় করিয়ে রেখে হাসছিস?

— আরে, তুই একটা দম-দেওয়া পুতুলের মতন প্রতি মিনিটে একবার করে ঘড়ি দেখছিলি আর একবার মোবাইল। মেয়েটার হাসি থামেই না আর।

— তুই কী করে জানলি???

-আমি তো ছিলাম ওখানে তোর অনেক আগে থেকেই। বুকশপের পেছনে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম আমি না এলে তুই কী করিস…

হঠাৎ যেন কুণালের মাথায় ধাক্কা লাগে। কী বলল মেয়েটা! আগে থেকেই ছিল ওখানে! এরকম যদি হয়, ওই সেভেন্‌থ ফ্লোরেও কেউ আগে থেকেই ছিল, রুম বুক করে। তাহলে তো লিফ্‌ট ব্যবহার করার প্রশ্নই উঠছেনা। এক্ষুণি একবার গেস্ট-লিস্ট চেক করা দরকার। আগে কেন করেনি সেই ভেবেই নিজেকে গালি দিতে ইচ্ছে হল কুণালের।
_________________________________________________________________________________________

দশ মিনিট পর হোটেল “ভিউ পয়েন্ট”-এ একটু সন্তর্পণেই যেন ঢুকলো কুণাল। কারণ অফিসিয়ালি সে এই কেস নিয়ে তদন্ত চালাতে পারেনা। হাঁফ ছাড়লো দেখে যে রিসেপশনে অন্য একটি মেয়ে বসে। কুণাল ওর আই ডি কার্ডটা দেখিয়ে বলে, “আমার কিছু ইনফর্নেশন দরকার মিঃ সিংঘানিয়ার ব্যাপারে। দশ মিনিটের মধ্যে।”

দশ মিনিটের জায়গায় প্রায় আধঘন্টা পর যে তথ্যগুলো পাওয়া গেল, তাতে কুণালের ভ্রূ, কপাল দু-ই কুঁচকে গেল।

সিংঘানিয়া শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটের সময় চেক-ইন করেন এবং রবিবার সকাল সাড়ে আটটার কিছু পরে তাঁর মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়। সিংঘানিয়া’র পরে সেইদিন, অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধ্যে থেকে রবিবার রাত অবধি আরো পঁচিশ জন গেস্ট “ভিউ পয়েন্ট”-এর আতিথ্য গ্রহণ করেছেন; তার মধ্যে আটজন হোটেলের পুরনো কাস্টমার, সতেরো জন নতুন। চারটে বিদেশী কাপ্‌ল, ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানানোর জন্য আসা, জনা আষ্টেকের একটা দল, একজোড়া বুড়োবুড়ি, বাচ্চা সহ একটি পরিবার– এরা প্রত্যেকেই এখনও হোটেলেই আছে প্রাথমিক পুলিশি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর-ও। ঝাড়াই-বাছাই করতে করতে সে তিনটে নামে এসে ঠেকার পর, সেই তিনজনের ক্রেডেনশিয়াল্‌স জানতে চায়। জানা যায়, প্রথম জন, একজন সোলো ফোটোগ্রাফার, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার হোটেল থেকে বেরিয়েছেন শ্যুটের জন্য, ঘর ছাড়েননি। আজ তাঁর ফেরার কথা। দ্বিতীয়জন,  এক সিন্ধ্রি, গতকাল বিকেলে বেরিয়ে গেছেন এবং তৃতীয় ব্যক্তি, এক বয়স্ক মহিলা, একাই এসেছিলেন এবং রবিবার খুব ভোরে তিনি হোটেল ছাড়েন।

রবিবার! খুব ভোর! কী এমন প্রয়োজন ছিল যে ভদ্রমহিলা পাঁচটার সময় এই শীতের ভোরে বেরিয়ে গেলেন। ইন্‌ট্যুশন ট্রিগার করে আবার।

মহিলার ফটো আইডি’র জেরক্স কপি দেখে কুণালের মাথা গরম হয়ে যায়। কিচ্ছু বোঝা যাচ্ছেনা, ঝাপসা ছবি, শুধু একমাথা সাদা বব্‌ড চুল।

– কী করে অ্যাক্সেপ্ট করেন আপনারা এমন আই ডি? মেজাজ হারিয়ে ফেলে কুণাল।

মেয়েটি মিনমিন করে বলে, যে নিজেই ছিল সেই সময় এবং ভদ্রমহিলার সত্যি একমাথা অমন চুল, সে মিলিয়ে নিয়েছিল।

চুলটা পরচুলা হতে পারে, সেকথা বলে লাভ নেই। কুণাল সেদিকে না গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে কিছু। ডিসগাস্টিং! মহিলা’র মুখে স্কার্ফ, লিফ্‌টে এক জায়গায় তিনি কাশছেন মনে হচ্ছে। মুখ কোথাও দৃশ্যমান নয়। এমনকি, মহিলার ট্রান্সপোর্টের ব্যাপারেও কিছুমাত্র হদিশ পাওয়া গেল না। জানা গেল, সেই ভোরবেলা তিনি হেঁটেই হোটেলের সীমানা পার হয়েছিলেন।
—————————————————————————————————————————————–

চারদিন কেটে গেছে। কুণাল সত্যি ছুটি নিয়েছে, দু-দিন না, এক সপ্তাহ। এই প্রথম কোন অপরাধী ওকে হারিয়ে দিল। ও এখন দৃঢ়বিশ্বাসী যে, ব্যাপারটা খুব চাতুর্যের সঙ্গে করা একটি মার্ডার। কে-ই বা বিশ্বাস করবে।হয়ত পোস্টমর্টেম করলে কিছু ক্লু মিলত… হতাশা, বিশ্রী রকম একটা হতাশা যেন গ্রাস করতে থাকে ওকে।

হঠাৎ মনে হয়, একবার মিসেস সিংঘানিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে হয়। যদিও, এসিপি গুপ্তা জানতে পারলে প্রবলেম আছে, তবুও ভদ্রমহিলাকে একবার জিজ্ঞেস করতে ক্ষতি কী! বড়জোর রিফিউজ করবেন এবং গুপ্তাকে জানাবেন। সাতপাঁচ ভেবে কিছুক্ষণ বাদে ফোনটা করেই ফেলে সে। সেক্রেটারীকে পেরিয়ে মিসেস নিশিতা সিংঘানিয়ার কাছে ফোনটা গেলে তিনি কুণালের অনুরোধ শুনে একটু যেন বেশীক্ষণ-ই সময় নেন রেস্পন্ড করতে।

— ম্যাম, আর ইউ অন দ্য লাইন?

— ইয়েপ, ওকে… আ যাইয়ে আপ, কাল শাম পাঁচ বজে, অ্যাট মায় রেসিডেন্স ইন কসৌলি।

—————————————————————————————————————————————–

কসৌলি এর আগে বার কয়েক যেতে হয়েছে কাজে। জায়গাটা এতই সুন্দর যে কুণালের মতন আনরোম্যান্টিক ছেলেও যেন অভিভূত হয়ে যায়। ভিক্টরিয়ান আমলের বাড়িঘর, ওক, উইলো আর ফার গাছের চাঁদোয়া মাথার ওপর, পরিষ্কার রাস্তাঘাট– ব্রিটিশ আমলের নস্টালজিয়া থেকে এখনও যেন বেরোতে পারেনি কসৌলি।

ঠিক চারটে পঞ্চান্ন মিনিটে “সিংঘানিয়া ম্যানসন”-এর সামনে দাঁড়িয়ে কুণালের মনে হল, অর্থ এবং রুচির নিঁখুত মিশেলে যেন তৈরি হয়েছে প্রাসাদোপম বাড়িটা।

উর্দিপরা দারোয়ান যে হলটায় বসিয়ে দিয়ে গেল, বহুমূল্য মরোক্কান চামড়ায় মোড়া তার সোফাসেট, মাথার ওপর সোয়ারোভস্কি ক্রিস্ট্যালের ঝাড়লন্ঠন। একটু পরেই আরেকজন মহিলা এসে জানালেন, ম্যাডাম তাঁর স্টাডিরুমে আছেন, সেখানেই যেতে হবে।

নিশিতা সিংঘানিয়া সুন্দরী, শুনেছিল কুণাল। কিন্তু সৌন্দর্য যে এরকম অপার্থিব হতে পারে, ওর ধারণা ছিল না! ভদ্রমহিলা বসে আছেন একটা হাই-ব্যাকড চেয়ারে, পরনে সাদা সিল্কের গাউন। মুখের চামড়া থেকে যেন আলো বেরোচ্ছে আক্ষরিক অর্থেই। আর এত কম বয়েস! কুণাল ঠিকমত হোম্ওয়ার্ক করেনি। নিশিতার বয়েস খুব বেশি হলে বত্রিশ হবে, মিঃ সিংঘানিয়া ছিলেন চুয়ান্ন।

নিশিতাই নীরবতা ভাঙলেন।

— কফি নিন, তারপর বলুন কী জানতে বা বলতে চান।

প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে উঠেছে ততক্ষণে কুণাল।

—————————————————————————————————————————————–

নিশিতার গভীর চোখে স্পষ্টতই সংশয় দেখা দেয়।

— তার মানে, আপনি বলছেন কেউ একজন ছিল যে খুব সফলভাবে সবার চোখে ধূলো দিয়েছে?

— ম্যাডাম, আমি কিছুই বলছিনা। কারণ কোন প্রমাণ নেই। কেসও অফিসিয়ালি ক্লোজড। ওই মহিলাকেও ট্রেস করা যায়নি। ঠিকানা ভুয়ো। ওখানে ওই নামে কেউ কস্মিনকালেও ছিলনা। আইডি নকল। তাহলে বুঝতে পারছেন তো?

— আমি শুধু জানতে চাইছি, এমন কি কেউ আছে, যাকে আপনি সন্দেহ করেন? যে এই কাজ করতে পারে বলে মনে হয়?

— না। নিশিতা  দৃঢ়স্বরে বলেন। বিজনেস রাইভ্যালরি থাকেই আমাদের জগতে কিন্তু কেউ এমন কাজ করবে বলে মনে হয়না।

— আচ্ছা, আপনার স্বামী সেদিন বিজনেস মিটিং এর জন্যি দেরাদুন গেছিলেন?

–হ্যাঁ, এ তো সকলেই জানে।

— আর ইউ শিওর?

— কী বলতে চাইছেন? একটু যেন রুক্ষ শোনায় নিশিতার কন্ঠস্বর।

মাথা নাড়ে কুণাল। কিছু না। হতাশাটা ফিরে আসতে থাকে ফের।

— আপনাকে এভাবে বিরক্ত করার জন্য আমি লজ্জিত, ম্যাডাম। আর একটাই প্রশ্ন, ব্যাগ থেকে বুকমার্কটা বের করে কুণাল বলে, কখনো দেখেছেন এমন কিছু? এটা পাওয়া গেছিল আপনার স্বামীর রুমে।

এক ঝলক তাকিয়েই মাথা নাড়েন নিশিতা। না, দেখেননি।

উঠে দাঁড়ায় কুণাল।

— অনেক ধন্যবাদ, ম্যাডাম, আপনার সময়ের জন্য।

— ইউ আর ওয়েলকাম।

ঘর থেকে বেরনোর আগে চারটে দেওয়াল ভর্তি বইয়ের আলমারির দিকে দৃষ্টি যায় কুণালের। মহিলা রীতিমতন শিক্ষিতা।

বেরিয়ে এসে হলের দিকে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, কী যেন একটা চোখে পড়তে পড়তেও পড়ল না…কী যেন একটা ভুল হয়ে গেল।

শেষ সিঁড়িতে নেমেই কুণাল লাফ দিয়ে  আবার ওঠে প্রথমটায়। দারোয়ান অবাক হয়ে চেয়ে আছে। পাত্তা না দিয়ে দ্রুতগতিতে হেঁটে নিশিতার স্টাডিতে ঢুকতেই যেন একটা ফ্রিজশট্‌ হয়ে যায়।

প্রায় দশ-বারোটা বুকমার্ক নিশিতার হাতে। সেগুলো তিনি সম্ভবতঃ, অন্য কোথাও রাখতে যাচ্ছিলেন। বুকমার্কগুলোর একটা রয়েছে কুণালের ব্যাগে। এইগুলোই ওর চোখে পড়েছিল বই দেখতে দেখতে। একটা ছোট টেবিলের ওপর গোছা করে রাখা ছিল। দেখেছিল কিন্তু মস্তিষ্ক তৎক্ষণাৎ “নজর” করেনি!

নিশিতা এক পা-ও নড়েননি। খুব আলতো হেসে বলে উঠলেন,

— প্রমাণ কী, অফিসার? একটা বুকমার্ক দিয়ে আর যাই হোক, নিশিতা সিংঘানিয়াকে ফ্রেম করতে পারবেন না।

কুণালের মত পোড়-খাওয়া মানুষ-ও যেন থমকে যায় একটু। তারপর সেও মৃদু হাসে,

— জানি। আপনার অনেক টাকা, অনেক কানেকশন্স। শাস্তি আপনার হয়ত হবেনা। সে পথ বন্ধ। কিন্তু কেন করলেন এ কাজ?

হঠাৎ যেন জ্বলে উঠলেন নিশিতা।

— কেন করলাম? কেন করলাম?

— আনন্দ সিংঘানিয়া ছিল আমার বাবার সামান্য এক এমপ্লয়ী। বয়স তখন অল্প, ওর প্রেমে পড়ে গেলাম। হাজার বারণ সত্ত্বেও ওকেই বিয়ে করবো পণ করলাম। প্রায় কুড়ি বছরের বড় এই লোকটাকে বিয়ে করার পরে জানতে পারলাম ওর স্বরূপ। বাবা হার্ট পেশেন্ট, তাঁকে জানানো যাবেনা। শুরু হল আমার সুখী থাকার অভিনয়। একটা দুশ্চরিত্র, মদ্যপ লোক ছিল এই সিংঘানিয়া। স্যাডিস্ট। প্রতিবার বিছানায় আমায় মেরে রক্ত বের না করলে ওর সুখ হতনা। এর মধ্যে বাবা মারা যাওয়ার আগে বিজনেসের পাওয়ার অভ অ্যাটর্ণি পেয়ে যায় ও আর আরো বেড়ে যায় অত্যাচার। আমাকে মা পর্যন্ত হতে দেয়নি ও। খুব কাছের দু- একজন ছাড়া কেউ জানেনা কী নরকযন্ত্রণা আমি ভোগ করছি বারো বছর ধরে!

বলতে বলতে হাঁপাতে থাকেন নিশিতা।

— আপনি জিজ্ঞেস করছিলেন না কী জন্য সেদিন গেছিল ও দেরাদুনে? বিজনেস মিটিঙয়ের অছিলায় হি ইউজড টু স্লিপ উইদ হুকারস।

— আমি আর পারছিলাম না। দুবার আমি সুইসাইড করার চেষ্টা করেছি, পারিনি। তাই একটা শেষ চান্স নিয়েছিলাম এবার। ফেক আইডি বানানো কোন কঠিন কাজ না, আপনারা পুলিশরা ভাল-ই জানেন। বাবার পুরনো এক এমপ্লয়ী আমায় হেল্প করেন এই ব্যাপারে। ্শুক্রবার আনন্দ দেরাদুন রওনা হওয়ার আগে আমি ওর প্রেশারের ওষুধের বোতলে নিরীহ ভিটামিন ট্যাবলেট ভরে দিয়েছিলাম আসল ওষুধ সরিয়ে। ও ভয়ানক হাইপারটেনশনের পেশেন্ট। ওষুধ না খাওয়া মানে … সাঙ্ঘাতিক এফেক্ট হতে পারে।

এরপর, ও রওনা হওয়ার খানিক বাদে আমিও বের হই। নিজে ড্রাইভ করে গেছিলাম। গাড়িতেই ভোল বদলে ফেলি। দেরাদুনে একটি অল্পবয়সী সেক্স- ওয়ার্কার-এর সঙ্গে কথা বলে তাকে বুঝিয়ে দিই যে কী করতে হবে। অসামান্য সুন্দরী এই মেয়েটির কথা আনন্দ’র মতন লম্পট ফেলতে পারবেনা, জানতাম। মেয়েটি ওর মদের সঙ্গে কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ মেশায়। শুধু তাই নয়, বাজার চলতি একটি  অ্যাফ্রোডিসিয়াক ট্যাবলেট-ও খাইয়ে দেয় ওকে। ফল হয় মারাত্মক! একে দু-তিন দিন আসল ওষুধ ওর শরীরে যায়নি, তার ওপর এগুলো। আনন্দ ঘুমিয়ে পড়লে মেয়েটি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। আমি ঢুকি। অবশ্যই মেয়েটিকে আনন্দর ঘরে ঢুকতে কেউ দেখেনি কেননা, সে আমার গেস্ট হিসেবেই এসেছিল। আনন্দ’র ফ্লোরেই ববড্‌ হেয়ার মহিলা স্যুইট বুক করেছিলেন, জানেন নিশ্চয়ই।

মাথা নাড়ে কুণাল।

— এরপর খুব সোজা। বিছানার পাশের জানালাটা খুলে দিয়ে আমি পাশের ঘরে বসে একটা বই পড়ছিলাম সারারাত। আনন্দ’র আবার অ্যাস্থমা-ও ছিল। ওর যখন ভোররাতের দিকে অ্যাটাকটা হয়, ঠিক সে সময় আমি ওর বিছানার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার সারা জীবনের গ্লানি, কষ্ট, দুঃখ মুছে যাচ্ছিল আমার চোখের সামনেই। বেরিয়ে আসার আগে বোতলের ওষুধ বদলে দিয়েছিলাম আসলগুলো দিয়ে। আর, যা শীত, হাতে গ্লাভ্‌স না পরলে কী চলে, বলুন।

— এই বুকমার্কগুলো আমি নিজে হাতে বানাই আমার বইয়ের জন্য। বই ছাড়া আর কোন বন্ধু নেই আমার। ভুল হয়ে গিয়েছিল, খেয়াল করিনি কখন বুকমার্কটা বই থেকে মাটিতে পড়ে গেছিল।

গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেললেন নিশিতা।

শুকনো হাসি হাসল কুণাল।

— কোন কোন সময় আইন যা শাস্তি দিতে পারে, তার থেকেও বেশি শাস্তি মানুষ নিজের কাছেই পায়, মিসেস সিংঘানিয়া, তার নিজের অস্তিত্বের মধ্যেই।

— দ্য কেস ইজ ক্লোজড, ফ্রম মাই সাইড টু…এঞ্জয় ইওর ফ্রিডম।

দরজাটা ভেজিয়ে বেরিয়ে আসার সময় একটা অস্পষ্ট কান্নার আওয়াজ কী ভেসে এল, কে জানে।
তবে ওর ইন্‌ট্যুশন তো ভুল করেনা!

#KolkataPolice কলকাতা পুলিশ-এর ফেসবুক পেইজ-এর “পাঠক কলম” বিভাগে নির্বাচিত এবং প্রকাশিত। 

Advertisements

টিপিক্যাল ইন্ট্রোভার্ট আমি। কথা বলি কম, শুনি বেশি। কথা বলতে হবে ভাবলে-ই শরীর খারাপ লাগে। তার বদলে তিন পাতা হাতের লেখা লিখলে যদি এক-ই কাজ হয়, আমি তাতে রাজী, এনি ডে। তো, সেসব তো আর হয়না। কাজের প্রয়োজনে, বকতে হয়, ফোনালাপ-ও করতে হয়। তবে, এর বাইরে, রাস্তাঘাটে নিতান্ত দায়ে না পড়লে সাধারণতঃ আমার মুখ থেকে হুঁ-হাঁ ছাড়া বিশেষ শব্দ বের হয়না। সেদিন হঠাৎ কী মনে হল, পাশে অটোচালক যখন অ্যাজ ইউজুয়াল গজ্‌গজ্‌ করছেন জ্যামে দাঁড়িয়ে,”এইজন্য শালা অফিস টাইমে এদিকে আসতে চাইনা, ফালতু বাঁ যত টাইম নষ্ট”, উত্তর দিয়ে ফেললাম।

— সত্যি অসুবিধে হয় আপনাদের, এই গরমে প্রতি ট্রিপে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা। সময় তো নষ্ট হয়-ই…

— (সামান্য অবাক হয়ে) কী বলবো আর দিদি…আমাদের-ই সবাই গালাগালি করে…আমরা-ও তো মানুষ। প্রতিদিন এই মিটিং-মিছিল-জ্যাম…পারা যায়…

এরপর দেশের অবস্থা নিয়ে আরো দু-একটি কথা’র মাঝে-ই আচমকা পাশ থেকে একটা ছোট প্রাইভেট বাস ওভারটেক করতে গিয়ে আলতো ধাক্কা দিয়ে ফেলল আমাদের অটো-কে। দিয়েই সেই বাসের হেল্পার বা ওরকম কিছু, যে গেট-এ দাঁড়ানো ছিল, চিৎকার করে খিস্তি দিয়ে উঠল অটোচালক-কে। অথচ দোষটা ১০০% বাসটা’র!

এরপর যা হয়. তুমুল বাগবিতণ্ডা। এরমধ্যে জ্যাম কেটে যাওয়ায় বাস চলেছে সামনে খিস্তাতে খিস্তাতে, আর অটো যথাসম্ভব জোরে তার পেছনে।

যেটা অদ্ভুত লাগলো, যে লোক-টি পাঁচ মিনিট আগে সামান্য একটা বাক্যে দুটো খিস্তি মেরেছিল, সে এই ঝামেলা’র মধ্যে-ও, বাস-এর লোকটা-কে একটা বাজে কথা বললোনা। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম যে শুধু আমার উপস্থিতি’র জন্য উনি কিছু বলতে পারছেন না। খালি বলছেন, “মুখ খারাপ করছিস তো, দ্যাখ তোকে কী করি! মারলে তো মরেই যাবি।।যা চেহারা!!”

আমি গন্তব্যে নামতেই, ভাড়াটা কোনরকমে নিয়ে স্পীড তুললেন অটো-তে, মুখভঙ্গী দেখে মনে হল, এইবার শুরু হবে… 😀

সেদিন-ই সন্ধেবেলা, হুড়মুড় করে ছুটছি গড়িয়ায়; এক বয়স্ক ভদ্রমহিলা, কিছু একটা দেখতে দেখতে আসছিলেন পাশের দোকানে, শেষমুহূর্তে একটা রিকশা-কে সাইড দিতে গিয়ে ওনা’র হাত থেকে পার্স-টা পড়ে গেল মাটিতে। অন্যসময় হ’লে, তুলে দিয়ে, কোনো কথা না বলেই চলে আসতাম হয়ত। কিন্তু সেদিন কথায় পেয়েছিল। তুলে দিয়ে বললাম, “সাবধানে দেখে হাঁটবেন তো…এত ভিড়”।

একটু হেসে বললেন,”তাও ভাগ্যিস তুলে দিলে। নয়ত সত্যি অসুবিধায় পড়তাম, নীচু হতে পারিনা তো”।

তারপর হাত-টা একটু ছুঁয়ে বললেন “ভাল থেকো”।

সেদিনের পর থেকে কেন জানি মনে হচ্ছে, এত অসহিষ্ণু, এত উগ্র আমরা, সে কি কেউ কারো কথা শুনিনা বলে? আমাদের দাঁড়ানো’র সময় নেই। কথা বলা’র প্রয়োজন নেই, শোনা’র তো নেই-ই।

একটু মন দিয়ে শুনলে, একটু সময় দিলে কি বদলে যায় চারপাশ… কী জানি…

একটি প্রখ্যাত প্রসাধনী কোম্পানি সুরবালাকে তাহাদের কিছু  মূল্যবান সামগ্রী পাঠাইয়াছেন; উদ্দেশ্য, সুরবালা যেন সে সকল ব্যবহার করিয়া নিজের মতামত জানান। সুরবালার নিজেকে প্রথমে কেমন গিনিপিগ বোধ হইতেছিল। একবার ভাবিলেন, সবসুদ্ধ ব্যাগটি সোনা হেন মুখ করিয়া কাহাকেও পাচার করিবেন এবং যা-হয় একটা কিছু মতামত লিখিবেন। কিন্তু তাহার পর তিনি “বাহুবলী” দেখিলেন, হৃদয়ে সাহস সঞ্চার করিলেন এবং ঠিক করিলেন যা হয় হইবে, একবার মাখিয়া দেখাই যাক!

সুরবালার পতিদেবতাটি সুবিধের নহেন। ফাঁক পাইলেই তিনি তির্যক মন্তব্য করিয়া সুরবালার ঝাঁ… অর্থাৎ গা-পিত্তি জ্বালাইয়া থাকেন। অতএব, সুরবালা ঠিক করিলেন, যে “মুখলেপন” বা ফেসপ্যাকটি আছে, উহা সকলে ঘুমাইয়া পড়িলে রাত্রে মাখিয়া দেখিবেন।  :/

সেইমত, গতকল্য রাত্রে মৃদু “ঘুরররর- ঘোঁত” শুরু হইতেই সুরবালা সতর্কভাবে খাট হইতে নামিয়া কৌটা খুলিয়া গোময় সদৃশ অর্ধতরল পদার্থটি মুখে মাখিতে শুরু করিলেন। দেখিতে খারাপ হইলেও উহার সুবাস বেশ মনোরম, সুরবালার কষ্ট হইতেছিল না। এর পর দেখিলেন কৌটার গায়ে লেখা আছে, মুখে লেপন লাগাইয়া বসিয়া থাকিতে হইবে যতক্ষণ না উহা শুকাইয়া যায়। দীর্ঘঃশ্বাস ফেলিয়া সুরবালা খাটে বসিয়া, টেবল-বাতি জ্বালাইয়া, বহুবার পড়া “হ্যারী পটার” পুনরায় পড়িতে আরম্ভ করিলেন।

এক্ষণে হ্যারী “সাপের ভাষা সাপের শিষ” সবেমাত্র আধো আধো বলিতে ও বুঝিতে আরম্ভ করিয়াছে, এমন মাহেন্দ্রক্ষণে, পতিদেব সামান্য নড়িয়াচড়িয়া উঠিলেন। মাগ্‌ল বলিয়াই হয়ত, সুরবালা ইতিমধ্যে তাহার মুখে যে লেপন রহিয়াছে, উহার কথা সম্পূর্ণ বিস্মৃত হইয়াছিলেন। বেশ কয়েকবার মুখ চুলকাইয়া ফেলিবার ফলে যে বেশ সাদায়-কালোয় চিত্রবিচিত পট তাহার মুখে রচিত হইয়াছিল, সে বিষয়েও অবগত ছিলেন না।

সুতরাং,পতিদেব জল খাইবেন বলিয়া চোখ খুলিয়া পাশের টেবলে হাত বাড়াইলেন, সুরবালা বিরক্ত হইয়া নিজমুখের সম্মুখ হইতে বইটি সরাইয়া কড়া চোখে তাকাইলেন এবং……

“বাপ্‌রে, ডাইনি কোথাকার” বলিয়া পতিদেব লম্ফ দিয়া উঠিতে গিয়া জলের বোতল সহ ভূপতিত হইলেন 😦

তবে, তিনি চোট পান নাই এবং সুরবালা যথেষ্ট আমোদ পাইয়াছেন। ভাল ভাল কথা লিখিবেন প্রসাধনী সম্পর্কে, ঠিক করিয়া ফেলিয়াছেন।

gsrabani51_pic

ঠিক কীভাবে যে গাড়িটা স্কিড করেছিল ঠিকঠাক মনে করতে পারেনা কিছুতেই রচনা। পেছন পেছন আসা ট্রাকটার ওপর বোঝাই করা মাল ত্রিপল দিয়ে শক্ত করে বাঁধা, ওপরে বসে আছে কয়েকজন ছোকরা গোছের খালাসী। মাঝেমধ্যেই তারা  সরস যৌনগন্ধী টিপ্পনী ছুঁড়ে দিচ্ছিল রচনাদের উদ্দেশ্যে। সেগুলো সব শোনা বা বোঝা না গেলেও অঙ্গভঙ্গি বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিল না দুজনের কারোরই।  মেজাজ হারাচ্ছিল অভি, রচনা কড়া চোখের ইশারায় বারণ করছিল রিঅ্যাক্ট করতে। দিনকাল ভাল নয়, কোত্থেকে কী হয় বলা যায়না…সন্ধ্যার ঝোঁকে এইসব রাস্তা, হাইওয়ে কানেক্টর বলা যায়,  খুব একটা ব্যস্ত নয়। হুশহাশ গাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছে, কেউ কারো সাহায্যের জন্য দাঁড়াবে এমন ভাবার কোন কারণ নেই।

আসানসোল থেকে বেরোতেই দেরী হয়ে গিয়েছিল ওদের। রাতের আগেই কলকাতা ঢুকবে বলে অভি চালাচ্ছিলও বেশ ভাল স্পীডে, আর, আশ্চর্যজনকভাবে ট্রাকটা যেন ওদের ওভারটেক করতেই চাইছিল না।  এই রাস্তায় এভাবে ট্রাকের মাথায় বসে থাকা যথেষ্ট বিপজ্জনক- এই বোধও কী নেই ওদের! অভি দু-একবার সামান্য স্লো করে ইশারা করলেও পাত্তা দেয়নি ড্রাইভার। হাল ছেড়ে দিয়ে অভি যথাসম্ভব স্পীড তুলেছিল। হঠাৎ একটা বাঁকের পরেই আলো-ঝলমলে একটা ধাবা দেখে আচমকা ব্রেক কষেছিল, প্রায় পরক্ষণেই বিকট স্ক্রী-ই-ই-ই-চ-চ আওয়াজ তুলে ওদের নীলরঙা ওয়াগনারের রঙ চটিয়ে সেটাকে প্রায় উলটে দিয়ে সামনের বিরাট গাছটাতে ধাক্কা মেরেছিল ট্রাকটা। রচনা ওই স্ক্রী-ই-ই-ই-চ-চ অবধি মনে করতে পারে সব…তারপর অন্ধকার।

নার্সিংহোম থেকে বাড়ি ফেরার দুদিন পরে অভি বলেছিল ঘটনাটা। গাছে ধাক্কার অভিঘাতে উপরে বসা তিনজনই ছিট্‌কে পড়েছিল রাস্তায় এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পেছন পেছন আসা আরেকটা লরী পিষে ফেলে ওদের।

“তুমি কি ইচ্ছে করেই ওভাবে ব্রেক কষেছিলে, অভি?”
আকুল স্বরে করা রচনার প্রশ্নটা শুনেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিল অভি।

“পাগল হয়ে গেছ নাকি? মানুষ খুন করেছি বলতে চাও? পুলিশ ইনভেস্টিগেশন হয়নি?… একশো আটরকম কথার জবাব দিতে হয়েছে…যারা ওখানে ছিল প্রত্যেকেই বলেছে দোষ ট্রাকটার…আর এখন কিনা তোমার কাছে এইসব আজগুবি কথা শুনতে হচ্ছে!!”

“কিন্তু…কিন্তু…তিনজন মারা গেছে… আর যে পেছনে ছিল? তার কী হল? বাঁচেনি না?”

হাঁ করে দু-সেকেন্ড রচনার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে অভি ধীরে ধীরে বলে,
“আর কেউ ছিলনা ওপরে, তিনজন; ড্রাইভার আর তার পাশে আরেকজন ছিল, তারা সাঙ্ঘাতিক ইঞ্জিওর্ড”

“কী বলছো কী! আমি স্পষ্ট দেখেছিলাম যখন ট্রাকটা আমাদের গাড়ির গা ঘেঁষে ছেঁচড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল, পেছনে আরেকজন ছিল… কালো রঙের জামা-প্যান্ট, সাথে একটা কুকুর, সেটাও কালো রঙ…লাল জিভ বের করে পা চাটছিল… লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে হেসে হাত নাড়ল…”

“স্টপ ইট, প্লীজ। তোমার এইসব গালগল্প শোনার মানসিকতা নেই আমার… ট্রমা আমারও আছে, রচনা, কিন্তু তাই বলে তোমার মতন মাথা খারাপ হয়ে যায়নি আমার…আই জাস্ট কান্ট টেক এনি মোর অভ দিস্‌ বুলশীট”

সেই শুরু।

*******

মাস সাতেক পর, রচনার ছোটকাকার পঁচাত্তর বছরের জন্মদিন খুব বড় করে পালন করা হবে বলে ওরা সব ভাইবোনেরা মিলে ডিসিশন নিল। এই কাকা অবিবাহিত, ভাইপো-ভাইঝিদের বড়ই প্রিয় এবং আদরের। ্সকাল থেকেই বাপের বাড়িতে রচনা। হই-হুল্লোড়, আড্ডা আর খাওয়া-দাওয়ার দাপটে সাত মাস আগে ঘটে যাওয়া ভয়ানক স্মৃতিটা মন থেকে ব্লটিং পেপার দিয়ে কেউ শুষে নিয়েছে যেন। অভিও দিব্যি ফুরফুরে মেজাজে খুড়শ্বশুরের সঙ্গে বিয়ার নিয়ে বসে হাল্কা রসিকতা করে চলেছে…অন্যান্য জামাই, শালারাও সঙ্গে যোগ দিয়েছে। মাঝে মাঝেই ছোটকাকার উদাত্ত হা-হা হাসির আওয়াজ ভেসে  আসছে দোতলার  হল থেকে। কলিংবেলের আওয়াজ শুনে রচনা ছুটল সদর দরজা খুলতে।

বড়পিসি বাতের ব্যথায় কেঁপেঝেঁপেও এসে হাজির হয়েছে। কত্তদিন বাদে দেখা…জড়িয়ে ধরে রচনা পিসিকে।

ঠিক সেই সময়েই চোখে পড়ে সদর দরজার উল্টোদিকের পাঁচিলে বসা লোকটাকে।

কালো রঙের জামা-প্যান্ট, সাথে একটা কালো কুকুর… লাল জিভ বের করল না কুকুরটা?…পা-টা কি চাটছে? লোকটা হাসছে…হাতটা নাড়বে বলে ওঠাচ্ছে … পিসির গায়ের ওপরেই এলিয়ে পড়ে রচনা।

..আবার অন্ধকার… আবার নার্সিংহোম।

তবে এবার আর একা ফেরা নয়, সঙ্গে ছিল ছোটকাকার বডি। পিসির আর্তনাদ শুনে হুড়মুড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা স্লিপ করে যায় কাকার…ইন্ট্যারন্যাল হেমারেজ… কয়েক ঘন্টায় সব শেষ।

*******

অনেক চেষ্টা করেও অভিকে ঘটনাটা বলে উঠতে পারেনি রচনা। জানে যে, বিশ্বাস করবেনা, শুধু শুধু ঝগড়াঝাঁটি অশান্তি…আজকাল একদম পারেনা এসব চাপ নিতে সে…

তিন দিন আগে, পাশের ফ্ল্যাটের মিসেস দেশাইয়ের ছেলের বাচ্চা হয়েছে শুনে দেখা করতে গেছিল। মিষ্টি, ফুট্‌ফুটে একটা পুতুল যেন মেয়েটা। খোলা জানালা দিয়ে সটান চোখ গেল সামনের ব্যালকনিতে।

আবার… মৃদু হাসল বোধহয়…কুকুরটা লোলুপ লোল জিহ্বা বের করে তাকিয়ে আছে।

ঝট্‌ করে চোখটা সরিয়ে নেয়… কিন্তু জানত কী হবে।

বাচ্চাটা দু-দিন পরে মারা গেল। টাইফয়েড হয়েছিল নাকি… বোঝা যায়নি।

********

অভি প্রথমে কোন কথাই বললনা কিছুক্ষণ। মাথা নীচু করে কিছু ভাবছিল। যখন মুখ তুলল, তখন দু-চোখে মায়া মাখানো।
“আমায় ভুল বুঝোনা প্লিজ, কিন্তু তুমি বুঝতে পারছনা কী সাঙ্ঘাতিক একটা মানসিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে তুমি যাচ্ছ। আমি জানি রচনা, এই ধরণের অ্যাকসিডেন্টের পর অনেক সময়েই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগে… আর তুমি তো কিছু বুঝতেই দাওনি কখনো…শুধু কয়েকবার ব্ল্যাক-আউট…যাইহোক, আমি কালই ডক্টর সোমের সঙ্গে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফিক্স করছি, আমিও যাবো তোমার সঙ্গে…কিছু ভেবোনা,সোনা, সব ঠিক হয়ে যাবে।” হালকা করে একটা চুমু খায় অভি রচনার ভেজা গালে।

“আমি পাগল নই, অভি! মানসিক রোগ হয়নি আমার। আমি যা তোমাকে বললাম সব বর্ণে বর্ণে সত্যি। কীকরে বোঝাবো তোমাকে…লোকটা আসে, প্রতিবার, আমি জানি কিছু একটা ভয়ানক অমঙ্গল নিয়ে আসে ও…”

দুজনেই দুজনকে বোঝানোর প্রাণপণ চেষ্টা করে চলে… শব্দ-প্রতিশব্দরা দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ঘুরতে থাকে, ঘুরতেই থাকে। তারপর একসময় প্রবল বিস্ফোরণে আছড়ে পড়ে। মাথার ভেতর প্রতিটি শব্দ বিস্ফোরণে ছিটকে আসা লোহার টুকরো…গেঁথে যেতে থাকে রচনার মগজে… শিরায়-উপশিরায়।

“পাগল, তুমি পাগল…মানসিক রোগী তুমি”

*********

গতকাল রাত্রে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে কখন যেন। টের পায়নি রচনা। এত ঘুম ঘুমোয় ও আজকাল যে কিছু টের পায়না। স্বপ্নও দেখেনা। কোথাও বেরোতে ভয় পায়। অভির সঙ্গে কথাবার্তা প্রায় বন্ধ বললেই চলে। ডাক্তার দেখায়নি ও। কেন দ্যাখাবে? সব সত্যি, ও জানে…

তবুও আজ সকালটা অন্যরকম লাগছিল। অসময়ের বৃষ্টির ঝাপ্‌টায় বারান্দার গাছগুলো ভিজে চুপ্পুস। ইস্‌, জেগে থাকলে ও-ও দেখতে পেত, জলের ঝরোখার ওপারে ভিজতে থাকা  গাছগুলোর আনন্দ।  বহুদিন পরে হঠাৎ যেন বড় বেশী করে বাইরে বেরোতে ইচ্ছে হচ্ছে আজ। বলবে কি অভিকে তাড়াতাড়ি আসতে?

ঘোরটা কেটে যায় অভির গলার আওয়াজে। আজকাল আর বাড়িতে ব্রেকফাস্ট করেনা অভি, বাইরেই খেয়ে নেয়। শুধু বেরোনর আগে নিয়ম করে একটা কথা রোজ জিজ্ঞেস করে…আজও সেটাই বলছে।

“যাবে একবার ডক্টর সোমের কাছে? প্লীজ?”

দমকা হাওয়ায় টবের গোলাপ গাছটা দুলে ওঠে, দু-ফোঁটা জল ঢেলে দিয়ে যায় আদর করে হাতের ওপর। অভিকে চূড়ান্ত হতবাক করে মাথা নাড়ে রচনা, যাবে।

হতভম্ব হয়ে কোন কথা না বলে রচনাকে  শুধু জড়িয়ে ধরে অভি; “রেডি হয়ে থেকো, ঠিক ছ’টা।”

আজ অনেকদিন পরে অভির যাওয়ার সময় সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে। ঠিক হয়ে যাবে সব, মনে মনে বলে সে।
ওই তো অভি গাড়ি বের করছে। বসলো স্টিয়ারিঙে…  হাত নাড়ছে হাসিমুখে।

অপস্রিয়মাণ গাড়িটার দিকে তাকাতে ঠিক তখনই…

পেছনে কালো জামা, কালো প্যান্ট পরা কে ও!

পাগলের মতন বেড্রুমে গিয়ে মোবাইলে অভির নাম্বার ডায়াল করে সে…আটকাতেই হবে অভিকে…

সামনে টেবিলে পড়ে থাকা অভির মোবাইলের রিংটোন ছাপিয়েও কানে আসে অনেক লোকের গলার আওয়াজ…অ-নে-ক  লো-ক… আর বীভৎস স্ক্রী-ই-ই-ই-চ-চ…।

একজোড়া

Posted: মার্চ 2, 2017 in ছন্দের কারিকুরি
ট্যাগসমূহ:, ,

হৃদয়ের ওমে বোনা
পশমী মাফলার
উশ্‌কে তোলে উষ্ণতা,
রঙিন সুতোয় যত্নে তোলা
আবছা হওয়া নাম…

বারাণসীর ঘাটে
সে যে ভাসিয়ে দিল শব
স্মৃতির স্রোতে যতেক ডালা
তোমার-ই সে সব…