Posts Tagged ‘Zulfiqar review’

zulfiqar-trailer-review-3_147211421562

#Zulfiqar

প্রথমেই বলা দরকার, যে বাংলা সিনেমা আমি দস্তুরমতন গ্যাঁটের কড়ি খচ্চা করে দেখে থাকি। কারণ, সেই যে আপ্তবাক্য; বাঙালি কে বাঙালি না দেখিলে আর কে দেখিবে! সুতরাং “জুলফিকর” যে দেখবো সেটা ঠিক করাই ছিল।

দেখে-টেখে ফিরে এসেছি। মন-মেজাজ অতীব প্রফুল্ল এমনটা বলা যায়না। তার কারণ এটাও হতে পারে, পেপ্‌সিটা তেমন ঠান্ডা ছিলনা, ইদিকে এসির ঠান্ডায় প্রায় জমে যাওয়ার দশা। যাইহোক, ভ্যানতাড়া ছেড়ে কাজের কথায় আসা যাক। “জুলফিকর” সম্বন্ধে আমার সামান্য দু-পয়সা…

#১ সিনেমা শুরু হয় টোনি অর্থাৎ পরমব্রতর (অ্যাজ অ্যান্টনি) হসপিটালে শুয়ে থাকার দৃশ্য দিয়ে। সেখানে অঙ্কুশ (অ্যাজ অক্টাভিয়াস সিজার) এবং রাহুল ( অ্যাজ লেপিডাস) উপস্থিত। সিনেমাতে প্রথমজন ব্যান্ডের গান গাওয়া ভাইপো থেকে ডনে পরিণত হয়েছে এবং দ্বিতীয়জন পুলিশ। ফুড-চেইন বিষয়ক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা চলে। হঠাৎ করে মনে হতে পারে পোর্ট এরিয়ার ডন বা পুলিশ নয়, বেশ আঁতেল বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এসে পড়েছি। -_-

#২ টোনি ইংরেজি ছাড়া কথা কয় না বললেই হয়। সেটা আশ্চর্য ব্যাপার নয় তেমন, কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল যে সীজারের খুনের পর অ্যান্টনি’র সেই বিখ্যাত sarcastic speech এখানে প্রায় circustic মনে হয় যখন আমজনতার সামনেও টোনি ইঞ্জিরি তেই বকে যায় এবং,  অহো শিক্ষাব্যবস্থা (!) তারা দিব্য সব বুঝতে পারে :/

#৩ নুসরত জাহানের কিছু করার ছিলনা। শুধু সারাক্ষণ ম্যাচিং স্লিভ্লেস ব্লাউজের সঙ্গে শিফন শাড়ি পরে এদিক-ওদিক তাকানো বা এর-তার সঙ্গে শুয়ে পড়া ছাড়া। শোয়া মানে জাস্ট শোয়াই, অন্য কিছু না।
পাওলি’র কেস টা ঠিক বোধগম্য হয়নি প্রথম থেকে শেষ অবধি। কিছু একটা মানসিক রোগ আছে এটা বোঝা যাচ্ছিল কিন্তু কেন যে তার অ্যাটাক শুধু পোসেঞ্জিত মানে জুল্‌ফিদা থাকাকালীন-ই হয়, সেটা বোঝা গেলনা। আর অত্ত বড় ডনের বাড়িতে আর কেউ নেই গো যে অভাগী বউ টাকে একটু দেখাশোনা করে… 😥
জুন মাল্য’র আরোই কিছু করার ছিলনা, বেশ কষ্টই হল ওনার জন্য। 😦

#৪ কৌশিক সেন বশির বা ব্রুটাস হিসেবে দিব্যি; শুধু যদি গলার স্বর টা অ্যাস্থমা রোগীর মতন না করার চেষ্টা করতেন, ভাল লাগত। “রাজকাহিনী”র ঋতুপর্ণা’র মেল ভার্সন আর কি।

#৫ ক্যাসিয়াস বা কাশীনাথ হিসেবে যীশুকে বেশ ভাল লেগেছে। সত্যি কথা বলতে কি, হল-এ তিনবার হাততালি পড়েছে, প্রথমবার, যখন দেবরূপী মার্কাসের এন্ট্রি হয়, দ্বিতীয়বার, যখন কাশীনাথ বলে, “আমার কপালে কী লেখা আছে বলে মনে হয়? বোকাচোদা?” (I’m really disappointed, একটা বিসি শুনে হাত্তালি :/ ) এবং শেষবার, যখন ভূতরূপী জুলফিকর যুদ্ধশেষে দ্যাখা দ্যান। এখানে কেন জনতা হাত্তালি দিল, মাইরি বুঝিনি… :/

#৬ একটা জিনিস বোঝা গেল, দেব ইজ দেব, দ্য বস্‌! মাক্কালীর দিব্যি, এতটুকু বাড়িয়ে বলছিনা, আমারও দারুণ লেগেছে ❤ :* ও হ্যাঁ, বলেছি কী, যে, এখানে দেবের কোন ডায়ালগ নেই, চরিত্রটি কথা বলতে পারেনা। তবে এর সঙ্গে আমার ভাললাগার যোগসূত্র খুঁজবেন না প্লীজ। শুধু লুক্‌স বিচার করলে, দেব-ই বেস্ট। সে বাকি পথ, রথ, মূর্তি, যতই ভাবুক “আমি দেব”… অন্তর্যামী মুচকি হাসবেন।

#৭ কয়েকটা দৃশ্যায়ণ বেশ লেগেছে। খিদিরপুরের ক্যান্টিলিভার ব্রিজের ঠিক জোড়টায় দেব এবং নুসরতের দাঁড়িয়ে থাকা তাদের সম্পর্কের ভঙ্গুরতা কে খুব subtle ভাবে বোঝায়। বা বশিরের গলার ইন-ইয়াং লকেট বা মাইকের গায়ে “বাঁশ” লেখা- এগুলি বেশ ইঙ্গিতবাহী।

আরো দু-একটা জিনিস না বললেই নয়, সেটা হল, কিছু ঐতিহাসিকের মতে, অ্যান্টনি আর ক্লিওপ্যাট্রা ঈজিপ্টে অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করাকালীন একটি সোসাইটি গঠন করেছিলেন, Inimitable Livers নামে, হয়ত সেটা মনে রেখেই এখানে রানী তলাপাত্ররূপী নুসরতের (হ্যাঁ, উনিই ক্লিওপ্যাট্রা  😥 ) বার-এর উপস্থাপনা।

শেষটা অসম্ভব প্রেডিক্টেবল…যা যা হবে বলে ভাবছিলাম, তাই তাই হয়েছে। এখন আপনার ভাবনার সঙ্গে সেই সেই ভাবনা মেলে কি-না সেটা জানার জন্যেও একবার অন্ততঃ দেখতেই পারেন সিনেমাটা :3

পুঃ- সেন্সর এটাকে এ-মার্কা বলে সার্টিফাই করেছে, ইন্টারনেটে টিকিট কাটতে গেলেও ডিক্লারেশন দিতে হচ্ছে বয়সের, সুতরাং অবধারিত ভাবেই হলে প্রায় 40% ছেলেমেয়েকে দেখে গাল টিপলে দুধ বেরোবে মনে হল ঢোকার সময়। বেরোনোর সময় সেই মুখগুলোয় যে হতাশা, ক্রোধ এবং প্রতিশোধমূলক ভাব দেখলাম… সত্যি বলছি, চোখে জল এসে যাচ্ছিল… 😥 বেচারারা… পুজোর পকেট্মানি থেকে টাকা দিয়ে টিকিট কেটে…  বাচ্চা বলে কি মানুষ না… সাধ-আহ্লাদ থাকতে নেই গো…