ফেসবুকের “আদার” ইনবক্স একটি স্বর্ণ খনি বিশেষ। নারী মাত্রেই জানেন এর তাৎপর্য‍্য। কত কিসিমের যে লোক হয় এই নেট দুনিয়ায়, তা বোঝার এবং জানার সহজতম উপায় এই “আদার”। আপনি আদার ব্যাপারি হন বা জাহাজের কারবারী, আউট অভ দ্য বক্স ভাবনাচিন্তা কাকে বলে এই ইনবক্স তার জলজ্যান্ত উদাহরণ।

এমনিতে সবাই জানে যে মেয়ে হওয়া এদেশে মোটামুটি একটা অপরাধের সামিল; এই মেয়েদের জন্যেই ধর্ষণের মতন একটা জঘন্য অপরাধ ঘটছে প্রতিনিয়ত; এই অসভ্য, হায়াহীন প্রজাতি কম কম জামাকাপড় পরে, সেজেগুজে দিনের বেলা তো বটেই এমনকি রাত্তিরবেলাতেও রাস্তায় ঘোরাফেরা করে পুরুষ কে প্রলুব্ধ করতে! কী সাংঘাতিক! শাড়ি-সালোয়ার প্রভৃতি সো-কল্ড ভদ্র পোষাকের বাবা-মেসো করে এরা জিন্‌স, হাপু, এমনকি গরম প্যান্ট পর্যন্ত অনায়াসে পরে ঘুরে বেড়ায়। এসব দেখে যদি পাঁচটা ছেলে একটু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তাহলে তাদের দোষ কোথায়?  আর একথা ব্যাদে আছে যে ছেলেদের মন মেয়েদের মতন প্যাঁচালো নয়, হুঁ হুঁ বাওয়া, ওদের মনে যা, মুখেও তাই।  তাই রাস্তায় এর’ম মেয়ে দেখে যদি মধ্যমা অটোমেটিক্যালি উঠে যায় বা চাট্টি রসের কথা মুখ থেকে বেরোয়- তাহলে কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়, বুঝিনা।

এত্তসব ট্র্যাফিক আইন হয়েছে, লাইট রে, পুলিশের প্যাট্রোল ভ্যান রে, ক্যমেরা রে, দাদুগীতি রে- আরে বস্‌, কয়েকটা ঝক্কাস দেখতে মেয়ে-পুলিশকে (ইয়েস, আগে মেয়ে, পরে পুলিশ, স্বাভাবিক নিয়মেই) ঝিঙ্কু ড্রেস পরিয়ে মোড়ে মোড়ে দাঁড় করিয়ে দাও, মার্সিডিজ টু রিক্সা , স-ও-ব দেখবে ঠিক জায়গামতন থামছে, চাখছে, যাচ্ছে। Total egalitarian concept- সব্বাই এক, আমরা সবাই রাজা… ইত্যাদি প্রভৃতি।

আচ্ছা, আচ্ছা, যা বলছিলাম… আসলে এই টপিক নিয়ে লিখতে বসলেই আমি একটু, ইয়ে মানে, আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি আর কী। ক্ষমাঘেন্না করে দেবেন নিজগুণে…
যাইহোক, হচ্ছিল “আদার” ইনবক্স এর কথা। আমি একদিন এক সুন্দর, সুবাসিত সকালে একটি মেসেজ পেলাম, একজন ভীষণ উদ্গ্রীব হয়ে জানতে চেয়েছেন, আমি শুতে কত নিয়ে থাকি। এতে আমি যারপরনাই অবাক হয়ে রিপ্লাই দিয়েছিলাম যে আমি এমনিতেই ঘুমাতে ভালবাসি, তার জন্য কেউ কখনও টাকাপয়সা দেয়নি আমাকে। ওনার বাড়ির মহিলারা শোয়া বা ঘুমানোর জন্য চার্জ করেন বলে সবাইকে অমন ভাবা ঠিক না। এতে করে কেন জানিনা উনি ভয়ানক ক্ষিপ্ত হয়ে গেছিলেন। আরো দু-চারটে কথার পর আমাকে ব্লক করে দিলেন অথচ আমি বুঝতেই পারলাম না যে আমার দোষটা কোথায়!

তাছাড়া, প্রত্যেক মেয়েই কোন না কোন সময় মেসেজ পেয়ে থাকে যে তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কেউ তাকে মডেল বানাতে চায় বা ফোটোশুট, বা  নিদেনপক্ষে, কোন বিশেষ পোজে তার ছবি দেখতে চায়। সুদূর মরক্কো থেকে শুরু করে নিকারাগুয়া, পারস্য এমনকি মঙ্গল্গ্রহ থেকেও এমত অনুরোধ এলে কোন মেয়েই অবাক হয়না। হওয়ার কথাও নয়, আমরা তো জানি, “আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী” … কিন্তু ভুসুকু এও বলেছেন যে, “মূঢ়া হিঅহি ণ পইসঈ” অর্থাৎ গাড়লের মগজে এতসব ঢোকেনা, তাই অবাক হওয়া বাদ দিলেও মাঝে মাঝেই মেয়েরা এইসব নিয়ে চিল্লামিল্লি করে, মানে মেয়েদের তো বুদ্ধিশুদ্ধি টেন্ডস টু জিরো …তাই আর কী…। এসব ছাড়াও, আমি_শুধু_চেয়েছি_তোমায়, বল্গাহীন_ভালবাসা, বিছানায়_বক, Sexy_Stud, Eternal_erection, DiscoDick- এরা সকাল-সন্ধ্যায় নিয়ম করে খোঁজখবর নিয়ে থাকে, বিচিত্র বানানে “ভালবাষা” জানায়।  Lyf roxxx!

তবু, এতকিছুর মধ্যেও ভরসার কথা এই যে, ইহজীবনে যত এরকম “হাম তো (মহা) পুরুষ হ্যায়, হাম ক্যা নেহি কর স্যকতা, সবকুছ জায়েজ হ্যায়” টাইপ ছেলে দেখেছি, তার দ্বিগুণ দেখেছি ঠিক মানুষের মতন পুরুষ। নিজের বাবা, দাদা,কাকা, স্বামী বা ছেলের কথা বাদ দিলেও বন্ধুস্থানীয় তাদের সংখ্যাটাও বড় কম নয়। এইসব নিয়েই তো জীবন, আমাদের জীবন; সবাই “ওম্মা, দ্যাখ কী ভাল, তকাই আমার” হবে, আয় তবে সহচরী গাইবে নেচে নেচে, তাই হয় নাকি? না হওয়া উচিৎ ।

বেঁচে থাক আমার নারীত্ব, আমার মেয়েলী সারল্য, আমার অকারণ হাসি, (পড়ুন ন্যাকামো) আমার চকিত সতর্কতা, আমার সঙ্গীর পায়ে-পা মিলিয়ে এগিয়ে চলার আনন্দ। সে পিছিয়ে পড়লে দাঁড়াব তার জন্য, কারণ আমি জানি সেও ঠিক তাই-ই করবে। পুনর্জন্ম আছে নাকি? কেউ জানেন? থাকলে, অগলে জনম মে মোহে বিটিয়া হি কিজো।

সারাদিন ধরে মাঝে মাঝেই সরু-মোটা-চিকন-গম্ভীর নানা গলায় ফোন আসে। আসতেই থাকে। কেউ আমাকে জানায় যে অমুক মিটিঙয়ে আমার উপস্থিতি একান্তই কাম্য, কেউ বা ইনভেস্টমেন্ট করতে চায় কয়েক কোটি, কেউ আবার গদগদ স্বরে আমাকে জানায় যে সুদূর নাইজিরিয়ার কোন এক অবলা, প্রকান্ড ধনী, বিধবা মহিলা আমাকেই কোন এক অজানা কারণে তাঁর সমস্ত সঞ্চিত অর্থ দান করতে চান- ইত্যাদি প্রভৃতি। আমার রেসপন্স এসব ব্যাপারে খুব-ই রিলেটিভ, সমস্তই ডিপেন্ড করে আমার মুডের ওপর। যেমন একদিন আমি বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলাম, সেইসময় একজন ফোন করে, “অ্যাম আই স্পিকিং টু মিস্টার ম্যানিপারনা?” আমি তাকে গলায় বিনয় ঝরিয়ে জিগাই যে কোত্থেকে তিনি এই নাম্বার পেলেন। তাতে তিনি বলেন যে তাদের ভি আই পি ডেটাবেসে আছে এই নম্বর। তখন আমি কান্না কান্না গলায় জানাই যে মিস্টার ম্যানিপারনা ইজ নো মোর, তিনি এন্তেকাল প্রাপ্ত হয়েছেন এই জাস্ট গতকাল। তারপর ফুঁপিয়ে কাঁদতে যাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি ফোন কেটে দ্যান।

তারপর আরেকদিন মেজাজ খাট্টা ছিল, সেসময় একটা ফোন আসে যে বিজনেস সংক্রান্ত ব্যাপারে একটি কোম্পানী আমার সঙ্গে বাড়ি এসে কথা বলতে চায়। মিস মণিপর্ণা আছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে আমি গম্ভীর গলায় জানাই যে উনি নেই, খাজুরাহো তে নাচতে গেছেন।

কালকের ব্যাপারটা অন্যরকম হল। অচেনা নাম্বার দেখে প্রথমে তুলিনি, দ্বিতীয়বার আবার ফোনটা আসাতে তুললাম। একজন একটু গ্রাম্য উচ্চারণে বললেন “বড়বাবু নি?”

কাল মেজাজ ভাল ছিল সুতরাং…

– বড়বাবু ব্যস্ত, কে বলছেন?
–  অ, বৌদিমণি, পেন্নাম। আমার ত কইলক্যাতা যাওয়া লাগেক আসছে সমবার। ত বুইলত্যেছিলাম কি বাগানের আমগুলান ন্যেয়া যাই? হাওড়া ইস্টিশানে কাউক্যে পাঠায়ে দিলেই হবেক…

আম আমার বড়ই প্রিয়। কিন্তু বাগান তো দূরে থাক, একখানা গোটা গাছও নেই আমার। তাই আমি একটু উৎসাহিত হয়ে পড়ি।

– হ্যাঁ হ্যাঁ, নিয়ে এসো… কখন, কোথায় আসবে?

আরো কিছু ডিটেইলস জানা যায় আম সম্বন্ধে। তারপর অপরপ্রান্ত বলে যে অতি অবশ্যই যেন হাওড়া ইস্টিশানে আম-নিতে-যাওয়া ব্যক্তির হাতে দু-হাজার টাকা পাঠাই… বাগানের বেড়া ভেঙ্গে গেছে…গরু-ছাগল ঢুকছে…😦

এরপর আমের আশা ত্যাগ করে ফোন রেখে দেওয়াই শ্রেয় মনে করলাম।😥

“তুনে মারি এন্ট্রি অওর দিল মে বজী ঘন্টি”- সুরবালা ধড়মড় করিয়া প্রায় লাফাইয়া উঠিলেন। চক্ষু পুরোপুরি উন্মীলিত করিতে না পারার দরুণ প্রথমে বুঝিতে পারিতেছিলেন না শব্দের উৎসস্থল। “টং টং টং” অনুসরণ করিয়া কায়ক্লেশে বাম চক্ষুটি নিমীলিত করিয়া বুঝিতে পারিলেন, পরমপূজ্য পতিদেবের চলমান দূরভাষ হইতে এমত মধুর ধ্বনি ভাসিয়া আসিতেছে। ষড়যন্ত্রটি বুঝিতে আর বাকি রহিলনা। গতরাত্রে স্বামীদেবতা কহিয়াছিলেন যে, অদ্য রবিবার হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার বিশেষ কর্মযজ্ঞ রহিয়াছে, সুতরাং সুরবালা যেন রবিবাসরীয় প্রভাতের নিদ্রালস্য ত্যাগ করিয়া অতি অবশ্য তাঁহাকে ভোর ছয়টায় ডাকিয়া দেন এবং যদি সামান্য এক পেয়ালা চা তিনি দয়া করিয়া প্রস্তুত করিতে পারেন তাহা হইলে তাঁহার ঊর্ধ্বতন চৌদ্দপুরুষ সৌভাগ্য লাভ করিবেন- ইহাও জানাইয়াছিলেন।

ইহাতে সুরবালা সুললিত ঝঙ্কারসহ বলিয়াছিলেন, যাহার বিবাহ তাহার হুঁশ না থাকিলে পত্নী বা প্রতিবেশীগণকে কেহ দিব্যি দেয় নাই যে সে বা তাহারা তাঁহাকে ছাদনাতলায় বসিবার জন্য হাঁক পাড়িবে। বলাই বাহুল্য, এরপর উভয়ের কন্ঠস্বরই উচ্চগ্রামে ওঠে, এমনকি পুর্নবিবাহের প্রস্তাবও বিবেচ্য হয়। ইহার পর ক্লান্ত হইয়া সুরবালা শয়ন করেন, তাহার পর আর তাহার কিছু মনে নাই। ইত্যবসরে, পতিদেব নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে চলমান দূরভাষে এই কুকর্মটি করিয়া রাখিয়াছেন। সুরবালার নিদ্রা ভোরের দিকে অগভীর হইয়া পড়ে, এবং তাঁহার নিজেরটি সুগভীর হয়, ইহা তিনি সম্যক জ্ঞাত আছেন। ফলতঃ…

প্রবল গাত্রদাহ ও বক্র ওষ্ঠাধর  লইয়া মনে মনে ভয়াবহ কুবাক্য উচ্চারণ করিতে করিতে  মুখ পর্যন্ত না ধুইয়া কোনক্রমে চা প্রস্তুত করিয়া মিনিট দশেক পর যখন শয়নকক্ষে আসিয়া সুরবালা দেখিলেন তদবধি পতিদেব নিষ্ঠা সহকারে নিদ্রা যাইতেছেন। সুরবালার ওষ্ঠাধর বক্রতর হইল।

“চা” বলিয়া ঠকাৎ করিয়া তিনি পেয়ালা-পিরিচ নামাইয়া রাখিলেন এবং সূচালো নখাগ্র দিয়া শায়িত পতির পৃষ্ঠে  একটি মনোরম খোঁচা দিলেন।

“অঃকুঃ” জাতীয় কিছু বলিয়া পতিদেব পাশ ফিরিয়া শুইলেন।

এইবার প্রতিহিংসাপরায়ণ সুরবালার মনে হইল যে যথেষ্ট হইয়াছে; উঠিয়াছি, চা করিয়াছি, ডাকিয়াছি। আমার কর্তব্যকর্ম সমাপ্ত। আর ডাকিবনা। ইহা ভাবিয়া  এবং #হোক_দেরি থিওরি অবলম্বন করিয়া সুরবালা পুনরায় শয়নেই উদ্যোগ করিলেন।

একবার ভাঙিলে পুনরায় আবাহন করিয়া আনা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তাও নিদ্রাদেবী হাসি হাসি মুখে প্রায় আসিব আসিব করিতেছেন এমন সময়, আবার! আবার! “তু লড়কী বিউটফুল কর গ্যয়ী চুল”…!!!!

ক্রোধে সুরবালা প্রায় অন্ধ, চলমান দূরভাষটি  ছুঁড়িয়া ফেলিবেন না ভাঙ্গিয়া ফেলিবেন সে বিষয়ে মানসিক দোলাচলে ভুগিতেছেন, এমন সময় পতিদেব লম্ফ দিয়া উঠিয়া লড়কীর কন্ঠস্বর রোধ করিলেন।

সম্মুখে পেয়ালা-পিরিচ দেখিয়া যারপরনাই আহ্লাদিত হইয়া সুরবালা কে সুপ্রভাত জানাইলেন এবং পূর্বের এলার্মেই তিনি নিদ্রোত্থিতা হইয়াছেন দেখিয়া হর্ষ প্রকাশ করিলেন।

যাহার ছয়টায় উঠিবার কথা, ছয়টা বাজিয়া পঁয়তাল্লিশে উঠিয়া সে কীভাবে এমন নাচন-কোঁদন করে, সুরবালার এই প্রশ্নের জবাবে একটি দীর্ঘ বিজৃম্ভণ সহকারে তিনি বলিলেন যে, আটটা নাগাদ রওয়ানা হইলেই যথেষ্ট … দুই ঘন্টা আগে এলার্ম না দিলে এই সামান্য চা-টুকু তাহার জুটিতনা… কেহ কেহ সামান্য কষ্ট স্বীকার করিতে পারেনা…ইত্যাদি…

ইহার পর, সুরবালা যদি তপ্ত তৈলে নিক্ষিপ্ত বার্তাকুর ন্যায় জ্বলিয়া উঠিয়া, পতি পরম গুরু আপ্তবাক্য বিস্মৃত হইয়া, স্বামীকে বিজয় মাল্য’র ন্যায় ষড়যন্ত্রকারী, অনৃতভাষী এবং সুযোগসন্ধানী বলিয়া সম্বোধন করে, উহাকে দোষ দেওয়া যায় কী?

কলিযুগ হইলেও আমাদের বিশ্বাস, ভগবান আছেন, তিনি ইহার যোগ্য বিচার করিবেন।

-_- -_-

খেলবি নাকি আমার সাথে? আয়
চোট্টামি তোর ফেলছি ধরে, প্রায়
হোমওয়ার্ক, বই-খাতা তুই ছাদের ঘরে, একা
বুঝিসনা কিচ্ছুটি… না? সবজান্তা ন্যাকা!
প্রথম চোখে চোখ রাখা তোর, প্রথম গোঁফের রেখা
হল্‌দে শাড়ি, সোনালী রোদ, নতুন তোকে দ্যাখা
বলবো ভাবি, একটা কথা, আজ থাক নয়, কাল
দুচোখে তোর জলের ধারা, উফ্‌ফ্‌ ফুচকাটা কী ঝাল!
অন্য খাতে গড়ায় জীবন, কাল আসেনা আর
রাইকিশোরী, কৃষ্ণকিশোর, স্মৃতিটুকুই সার।

কলিযুগ শেষ প্রায়, দেশের এই দুর্দিন
দাদু খায় নাতি খায় ব্রিটানিয়া থিন্‌
“ইন্টলারেন্ট, ইন্টলারেন্ট”- ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
টাকা মাটি, মাটি টাকা, কড়োরপতি কওন?
নীলাকাশ , রোদ-জল, ঘাস-পাতা-পাখি
বিবেক তো ওবেরয়, নিদ্রিত আঁখি
ফাস্ট ফুড, পাঁচতারা, গুড় আর রুটি
খালি পেট বসে ভাবে কবে পাবে ছুটি!
চলতা হ্যায় সবকুছ, কৃষ্ণের বাঁশি
খ্যাক খ্যাক, খিক খিক, হায়নার হাসি
যা আছে, থাকবেও, স্থবির এ প্রবাহ
আজ রাতে প্যাঁচা আর ময়ুরের বিবাহ!